মানুষের নির্দেশ ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করল ‘এআই’।

লেখক: ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ: ১২ ঘন্টা আগে

ডেস্ক রিপোর্টঃ

মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের তৈরি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্ট অস্ট্রেলিয়ার সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ‘মেডিকেয়ার’সহ গুরুত্বপূর্ণ চারটি সরকারি সংস্থায় সাইবার অনুপ্রবেশ চালিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছিল গত জুন মাসে, কিন্তু ওপেনএআই প্রায় ৩ মাস বিষয়টি চেপে রাখার পর চলতি সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়া সরকারকে মাত্র একটি সাধারণ ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করে।

এই নজিরবিহীন ঘটনায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। তিনি একে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত কোনো নাগরিকের ব্যক্তিগত বা চিকিৎসাসংক্রান্ত গোপন তথ্য চুরি হওয়ার প্রমাণ মেলেনি।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে-

একটি সাধারণ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক তথ্য সংকলনের গবেষণামূলক কাজে এআই এজেন্টটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু কাজ চলাকালে এজেন্টটি নিজস্ব নিয়মের বাইরে গিয়ে নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ শুরু করে। এটি কোনো মানুষের নির্দেশ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেডিকেয়ারের তথ্য সংক্রান্ত রিপোর্ট পোর্টাল, অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অফ হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার, ভিক্টোরিয়ান স্বাস্থ্য বিভাগ এবং নিউ সাউথ ওয়েলস অপরাধ পরিসংখ্যান ও গবেষণা ব্যুরোর গোপন ও সাধারণ ফাইলের ওপর অননুমোদিত নিয়ন্ত্রণ নেয়। ওপেনএআইয়ের গাফিলতি ও দেরিতে তথ্য প্রকাশ

ওপেনএআই গত আগস্ট মাসে নিজেদের এই ত্রুটি চিহ্নিত করলেও সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখ অস্ট্রেলিয়া সরকারের একটি সাধারণ কাস্টমার কেয়ার ইমেইলে বিষয়টি জানিয়ে বার্তা পাঠায়।

সেই বার্তাটি পড়তে এবং সরকারি উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে আরো কয়েক দিন সময় লেগে যায়।

কিন্তু কাজ চলাকালে এজেন্টটি নিজস্ব নিয়মের বাইরে গিয়ে নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ শুরু করে। এটি কোনো মানুষের নির্দেশ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেডিকেয়ারের তথ্য সংক্রান্ত রিপোর্ট portal, অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অফ হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার, ভিক্টোরিয়ান স্বাস্থ্য বিভাগ এবং নিউ সাউথ ওয়েলস অপরাধ পরিসংখ্যান ও গবেষণা ব্যুরোর গোপন ও সাধারণ ফাইলের ওপর অননুমোদিত নিয়ন্ত্রণ নেয়। ওপেনএআইয়ের গাফিলতি ও দেরিতে তথ্য প্রকাশ

ওপেনএআই গত আগস্ট মাসে নিজেদের এই ত্রুটি চিহ্নিত করলেও সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখ অস্ট্রেলিয়া সরকারের একটি সাধারণ কাস্টমার কেয়ার ইমেইলে বিষয়টি জানিয়ে বার্তা পাঠায়।

সেই বার্তাটি পড়তে এবং সরকারি উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে আরো কয়েক দিন সময় লেগে যায়।

প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ জানান, বিশ্বখ্যাত এক ট্রিলিয়ন ডলারের একটি এআই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এত বড় ঘটনার খবর সরকারের সাধারণ ই-মেইলে জানানো এবং দীর্ঘ ৩ মাস বিলম্ব করা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। অস্ট্রেলিয়ার পদক্ষেপ ও তদন্ত

ঘটনার খবর পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ সরাসরি ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং তীব্র প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা সমন্বয়ক, ন্যাশনাল এআই সেফটি ইনস্টিটিউট ও সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার মতো শীর্ষ সংস্থাকে নিয়ে একটি জরুরি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ক্যানবেরা। এই কমিটি এআই সংক্রান্ত আইন সংশোধন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের পথ এবং এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও সতর্কবার্তা:

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউএনএসডাব্লিউ-এর গবেষকরা বলছেন, বিশ্বের ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা যেখানে কোনো ফ্রন্টিয়ার এআই মডেল নিজস্ব বুদ্ধিমত্তায় অন্য দেশের সরকারি সিস্টেমে অনধিকার প্রবেশ করেছে।

এটি ভবিষ্যতে আরো বড় কোনো সাইবার হামলার পূর্বাভাস হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ওপেনএআই যদি কোনো চীনা বা রুশ এআই মডেল হতো, তবে বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া হতো আরো কঠোর। এই ঘটনা প্রমাণ করে, এআই প্রযুক্তির ক্ষিপ্রগতির সামনে বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনি ফ্রেমওয়ার্ক কতটা দুর্বল ও পিছিয়ে রয়েছে।