হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র দুই চিকিৎসকে চলছে স্বাস্থ্যসেবা।

লেখক: মোঃ খায়রুল ইসলাম ফকির।
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র দুইজন চিকিৎসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে পুরো স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। জনবল সংকটে চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছেন এ অঞ্চলের শত শত রোগী। অথচ ভৌগোলিক দিক দিয়ে এই হাসপাতালটির গুরুত্ব অনেক বেশি, কারণ এটি কেবল হোসেনপুর নয়; বরং আশপাশের ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার পাঁচভাগ ইউনিয়ন, নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গিরপুর ইউনিয়ন এবং পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের মানুষের জন্যও একমাত্র সরকারি চিকিৎসার ভরসা।

৫০ শয্যার এই হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি থাকলেও এখন পর্যন্ত সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। এরইমধ্যে চিকিৎসক সংকট চরমে পৌঁছেছে। রোববার (২৭ জুলাই) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আউটডোরে রোগীর দীর্ঘ সারি। একমাত্র কর্মরত চিকিৎসক ডা. আল-নূর আকাশ একাই শিশু, নারী, পুরুষ, বয়োবৃদ্ধ সব ধরনের রোগী দেখছেন। এদিন গোবিন্দপুর ইউনিয়নের গণমানপুরুরা গ্রামের রুপালী আক্তার তার ছয় মাস বয়সী কন্যা রওজা মনিকে নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের কাওনা গ্রামের সুমা আক্তার তার তিন বছরের ছেলে তুহাকে নিয়ে এসেছেন।

আব্দুর রহমান তার ১৮ মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে অপেক্ষায়। এমন শতাধিক অসহায় রোগী চিকিৎসার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনেই সময় কাটাচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. তানভীর হাসান জিকু জানান, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে ২৮ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র দুইজন চিকিৎসক দিয়ে ৫০০-৬০০ রোগীকে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সংকট নিরসনে একাধিকবার ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক বরাবর আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “হোসেনপুর উপজেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক চিকিৎসক এখানে থাকতে চান না। ফলে চিকিৎসক সংকট দিন দিন বাড়ছেই।”তিনি আরও জানান, বর্তমানে কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে আছেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সুবীর নন্দী ও গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. মরিয়ম আক্তার।

তবে তারা নিয়মিতভাবে হাসপাতালে উপস্থিত না থাকায় কার্যত সার্বিক দায়িত্ব একজন চিকিৎসকের কাঁধেই। এ বিষয়ে জনদুর্ভোগ নিরসনে নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম ফকির বলেন,“চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার। অথচ হোসেনপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি হাসপাতালে বছরের পর বছর ধরে চিকিৎসক সংকট চলতে থাকা গভীর অবহেলার বহিঃপ্রকাশ। রোগীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা নেওয়ার এই দৃশ্য আমাদের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

অবিলম্বে চিকিৎসক সংকট নিরসন, চিকিৎসকদের থেকে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়বে এবং এই জনদুর্ভোগ আরও তীব্র হবে।”