ভারতে বিয়ের পাত্রী না পেয়ে ছয় মাসে ২৯ পুরুষের আত্মহত্যা ?

লেখক: ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ: ৪৫ minutes ago

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ভারতের মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩৮৩ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে ২৯টি আত্মহত্যার ঘটনায় বিয়ের জন্য পাত্রী না পাওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মহারাষ্ট্র পুলিশ।

দেশটির পুলিশের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আত্মহত্যার পেছনে বিয়ের সমস্যা ছাড়াও মাদকাসক্তি, হতাশা, পারিবারিক সংকট ও ঋণের মতো নানা কারণ রয়েছে। ফলে ২৯টি আত্মহত্যার ক্ষেত্রে বিয়ের বিষয়টি উঠে এলেও সেটিকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখছে না পুলিশ।

তবে এই পরিসংখ্যান জলগাঁওয়ের গ্রামাঞ্চলে বিয়ে নিয়ে পুরুষদের সংকটের একটি দিক সামনে এনেছে।স্থানীয় তরুণ, পরিবার ও গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিয়ের ক্ষেত্রে চাকরি, জমি, আর্থিক স্থিতিশীলতা, জাতি, পারিবারিক দায়িত্ব এবং নারীদের পরিবর্তিত প্রত্যাশার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০১৯-২১ সালের ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে-৫-এর তথ্য অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের প্রায় ১১ শতাংশ অবিবাহিত। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ রাজ্যটিতে অবিবাহিত পুরুষের হার নারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।জলগাঁওয়ের বাসিন্দাদের বক্তব্যেও আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি উঠে এসেছে।

স্থানীয়দের কেউ কেউ জানিয়েছেন, সরকারি চাকরি, নিজস্ব বাড়ি বা স্থায়ী আয় না থাকায় বিয়ের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যাত হতে হচ্ছে অনেক পুরুষকে। এমনকি কোনো কোনো পরিবার ছেলের বিয়ের জন্য বাড়ি তৈরি, জমি কেনা কিংবা আর্থিক অবস্থার উন্নতির চেষ্টা করছে।গবেষকদের মতে, গ্রামীণ অর্থনীতির পরিবর্তনের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে প্রত্যাশাতেও পরিবর্তন এসেছে। আগে জমির মালিকানাকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে দেখা হলেও এখন নিয়মিত আয়, চাকরি, শহরে বসবাসের সুযোগ ও নিজস্ব বাড়ির মতো বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।

এর পাশাপাশি জাতি ও উপজাতিগত পরিচয়ও বিয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। নারীদের শিক্ষার সুযোগ ও ব্যক্তিগত পছন্দের গুরুত্ব কিছুটা বাড়লেও পারিবারিক ও সামাজিক প্রত্যাশা এখনো তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টিকে শুধু ‘পাত্রী না পাওয়া’ হিসেবে দেখলে সমস্যার পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। বেকারত্ব, আর্থিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক চাপ, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মতো একাধিক কারণ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।তাই জলগাঁওয়ের আত্মহত্যার পরিসংখ্যানকে বিয়ের সংকটের সরল ফল হিসেবে ব্যাখ্যা না করে বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে দেখা প্রয়োজন।