{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট:
ভুটানের বাজারে ঢুকলেই প্রথমে যে বিষয়টি চোখে পড়ে, তা হলো— এখানকার জীবনযাত্রা প্রকৃতি ও নৈতিকতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। পাহাড়ঘেরা শান্ত এই দেশে খাদ্যপণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি হলেও মানুষের জীবনযাপন ধীর, পরিচ্ছন্ন এবং প্রকৃতিনির্ভর।বর্তমানে ভুটানের বাজারে এক লিটার পানির দাম প্রায় ২০ টাকা।
ত্রিশ মিলি স্প্রাইট বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। পেয়াজ প্রতি কেজি ৪০ টাকা, শুকনো মরিচ ৩৮০ টাকা কেজি। দেশি ডিম প্রতিটি ৩০ টাকা এবং ফার্মের ডিম ২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।চালের বাজারে রয়েছে ভিন্নতা। সাধারণ চালের দাম প্রতি কেজি ১৪০ টাকা থেকে শুরু হয়ে উন্নত মানের চাল ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। মসুরের ডাল ও বুটের ডাল প্রতি কেজি ১০০ টাকা। ময়দা ৬০ টাকা কেজি এবং চিনি ৫০ টাকা কেজি।
সবজির মধ্যেও দামের তারতম্য রয়েছে। কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি, আদা ১২০ টাকা কেজি। আপেলের দাম প্রতি কেজি ৩০০ টাকা। সরিষার তেলের দাম প্রতি কেজি ২৭০ টাকা হলেও তিন লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে ৫৭৫ টাকায়।ভালো মানের পাহাড়ি মধুর দাম সবচেয়ে বেশি— প্রতি কেজি প্রায় ১৪০০ টাকা। পাহাড়ি ফুল ও বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশে উৎপাদিত এই মধুর চাহিদাও বেশ।
ভুটানের সমাজব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো— প্রাণী হত্যাকে অনেকেই পাপ হিসেবে বিবেচনা করেন। সে কারণে দেশটিতে মাছ ও মাংসের বড় একটি অংশ আমদানি নির্ভর। স্থানীয়ভাবে কোনো গরু, ছাগল বা মুরগি পাহাড় থেকে পড়ে মারা গেলে অনেক সময় সেই মাংস সংগ্রহ করা হয়।প্রকৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, প্রাণীর প্রতি সহমর্মিতা এবং সীমিত ভোগের সংস্কৃতি— এই তিনের সমন্বয়ে ভুটানের বাজারব্যবস্থা অন্য অনেক দেশের চেয়ে আলাদা এক বাস্তবতার পরিচয় বহন করে।
ভুটানের বাজারব্যবস্থা ও জীবনযাত্রা অন্য অনেক দেশের তুলনায় ভিন্ন এক বাস্তবতা তৈরি করেছে। পাহাড়ঘেরা ছোট এই দেশটি প্রকৃতি ও নৈতিকতার সঙ্গে জীবনকে মিলিয়ে নিয়েছে বলেই খাদ্য, চিকিৎসা ও সামাজিক কাঠামোতেও দেখা যায় আলাদা বৈশিষ্ট্য।ভুটানে এসপ্রেসো কফির এক শট কোথাও ১২০ টাকা, কোথাও ১৪০ টাকা, আবার কিছু পর্যটন এলাকায় ২৭০ টাকাও গুনতে হয়। ডাব খুব একটা চোখে পড়ে না। লিচু ও আমের মতো ফলও আমদানি নির্ভর। এক কেজি আমের দাম প্রায় ৩০০ টাকা।দেশটিতে বিয়ার তুলনামূলক সহজলভ্য এবং সস্তা। ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিলিটারের একটি বিয়ারের বোতল ১০০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়। ভুটানের বাজারে ব্যবহৃত অনেক পণ্যই আসে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে।
লবণ আমদানি করা হয়, মাংসের বড় অংশ আসে ভারত থেকে, আর বাংলাদেশের ফার্মের মুরগিও যায় ভুটানে। এমনকি কিছু ঔষধও বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয় সেখানে। ভুটানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি হলো— দেশটিতে চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষাসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বিনা খরচে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সুবিধা পেয়ে থাকে। তবে এর পাশাপাশি প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফার্মেসিও রয়েছে।
প্রকৃতিনির্ভর অর্থনীতি, সীমিত উৎপাদন, আমদানিনির্ভর বাজার এবং মানুষের শান্ত জীবনযাপন— সব মিলিয়ে ভুটান যেন আধুনিক পৃথিবীর ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যরকম এক সমাজব্যবস্থার নাম।
