জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সুপারিশ করেছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। এ জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নির্দলীয় করার লক্ষ্যে বিদ্যমান আইন সংশোধনের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
১৫ জানুয়ারি, বুধবার, কমিশন প্রধান উপদেষ্টার কাছে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি নয় পৃষ্ঠার সুপারিশ জমা দিয়েছে। সেখানে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো হলো:
স্থানীয় সরকার নির্বাচন:
১. একটি স্থায়ী ‘স্থানীয় সরকার কমিশন’ গঠন করা। এই উদ্দেশ্যে ২০০৭ সালে গঠিত ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ কমিটি’র আলোকে নতুন আইন প্রণয়ন করার সুপারিশ।
২. জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব।
৩. স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় করার জন্য বিদ্যমান আইন সংশোধন।
৪. প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অর্থবহ ভূমিকা নিশ্চিতকরণ।
৫. স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন।
৬. এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগে তাদের চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার বিধান।
৭. ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা দাখিলের মাধ্যমে ভোটারদের তাদের পটভূমি জানার অধিকার নিশ্চিত।
৮. পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাচন আয়োজন।
৯. স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে জাতীয় বাজেটের ৩০% বরাদ্দ নিশ্চিত করা।
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:
১. নতুন দল নিবন্ধনে শর্ত শিথিলের প্রস্তাব; এর আওতায় ১০% জেলা ও ৫% উপজেলা/থানায় অফিস থাকা এবং ন্যূনতম ৫,০০০ সদস্যের বিধান।
২. দলের সদস্যদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ ও প্রতিবছর হালনাগাদ করা।
৩. আইসিটি আইনে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দলীয় পদে নিষিদ্ধকরণ।
৪. গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দলীয় পদে অযোগ্য ঘোষণা।
৫. দলের স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ের কমিটি গঠনে গোপন ভোটের প্রস্তাব।
৬. প্রার্থীদের নির্বাচনের জন্য প্যানেল তৈরি এবং দলীয় মনোনয়ন প্রদানের গোপন ভোট প্রক্রিয়া।
৭. দলের চাঁদা ও অনুদান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ।
৮. দলীয় তহবিলের হিসাব বাৎসরিকভাবে নিরীক্ষণের ব্যবস্থা।
৯. ছাত্র, শিক্ষক ও শ্রমিক সংগঠনসহ কোনো লেজুড়বৃত্তিক শাখা নিষিদ্ধ।
১০. দলের বিদেশি শাখা না থাকার বিধান।
১১. সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের তিন বছরের সদস্যপদ থাকা বাধ্যতামূলক।
১২. প্রতি পাঁচ বছর পর দলীয় নিবন্ধন নবায়নের প্রস্তাব।
১৩. পরপর দুই নির্বাচনে অংশ না নিলে দলের নিবন্ধন বাতিলের নিয়ম তুলে দেওয়ার সুপারিশ।
সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণ:
১. আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণে আইন প্রণয়ন।
২. ভবিষ্যতে সীমানা নির্ধারণে একটি স্বাধীন কর্তৃপক্ষ গঠন।
সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার কার্যক্রম শুরু করবে।
