নিজস্ব প্রতিনিধি:
লেবাননের সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, “ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মাত্র এক ঘণ্টার ক্ষেপণাস্ত্র হামলাতেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।” মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) টেলিভিশন ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এই ভাষণটি তিনি দিয়েছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শহীদ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাঈদ ইজাদির শাহাদতের ৪০তম দিন উপলক্ষে। ভাষণে জেনারেল ইজাদিকে ‘ফিলিস্তিনের জন্য আত্মোৎসর্গকারী একজন বীর ইরানি শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নাঈম কাসেম বলেন, “লেবাননের প্রতিরোধ শক্তি সংগঠিত, সুসংহত এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।” তিনি আন্তর্জাতিক চাপকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “এই চাপ লেবাননের স্বার্থে নয়, বরং ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।”
বৈরুত বিস্ফোরণ ও মার্কিন প্রস্তাব নিয়ে মন্তব্য
বৈরুত বন্দরের ভয়াবহ বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে হিজবুল্লাহ নেতা বলেন, “আমরা চাই দ্রুত তদন্ত শেষ হোক এবং দোষীরা শাস্তি পাক।”
তিনি মার্কিন দূত টম ব্যারাকের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “এই প্রস্তাব ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করে এবং লেবাননের প্রতিরক্ষা প্রয়োজনীয়তা উপেক্ষা করে।”
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও অস্ত্রনীতি
নাঈম কাসেম যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে অভিযোগ করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র চায় না, এমন কোনো অস্ত্র লেবানন সেনাবাহিনীর কাছে থাকুক যা ইসরায়েলের জন্য হুমকি হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “হিজবুল্লাহ কখনোই লেবানন সরকারের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেনি।” ভাষণের শেষদিকে কাসেম প্রশ্ন করেন, “যদি হিজবুল্লাহ অস্ত্র ছেড়ে দেয়, তাহলে লেবাননকে কে রক্ষা করবে?”
