পাবনায় ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যস্থতায় ছেলের ঘরে ফিরলেন মা।

লেখক: ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ: ১৭ ঘন্টা আগে

ডেস্ক রিপোর্টঃ

পাবনার সাঁথিয়ায় মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে অস্বীকৃতি জানানো গ্রাম পুলিশের সদস্য সাগর হোসেন অবশেষে মায়ের ভরণপোষণসহ সব দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছেন। আদালতের মধ্যস্থতায় ভুল বুঝতে পেরে মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। পরে ছেলের সঙ্গে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন বৃদ্ধা মুন্নি খাতুন।

রোববার (১১ অক্টোবর) পাবনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সাঁথিয়া থানার আমলি আদালতে মা ও ছেলের বক্তব্য শোনার পর এ সমাধান হয়।

সাগর হোসেন সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) গ্রাম পুলিশের সদস্য। তার বাড়ি ওই ইউনিয়নে।

এর আগে গত ৮ অক্টোবর মায়ের ভরণপোষণ ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে একটি পারিবারিক মামলার শুনানি হয় সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে। ওই সময় ইউএনও তাকে মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা বুঝিয়ে দেন। তবে মায়ের খরচ বহন করতে রাজি হলেও তাকে নিজের কাছে রাখতে অস্বীকৃতি জানান সাগর। এ ঘটনায় সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি আদালতের নজরে এলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে উদ্যোগ নেয় আদালত। রোববার বিকেলে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমানকে সাগর ও তার মাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ওসি নিজের গাড়িতে করে তাদের আদালতে নিয়ে যান।

শুনানিতে মা ও ছেলের বক্তব্য শোনার পর তাদের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয় আদালত। এ সময় নিজের ভুল বুঝতে পেরে মায়ের ভরণপোষণসহ সব দায়িত্ব নিতে রাজি হন সাগর। মায়ের সঙ্গে এমন আচরণের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কথা জানিয়ে ভবিষ্যতে আর এমন আচরণ করবেন না বলেও আদালতকে আশ্বস্ত করেন তিনি। পাশাপাশি নিজের মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান।

ছেলের কাছে থাকতে পারার আনন্দ প্রকাশ করে মুন্নি খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। আমি আমার ছেলেকে চেয়েছিলাম, অবশেষে তাকে ফিরে পেয়েছি। আমার আর কিছু চাওয়ার নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছেলের সব ভুল আমি মাফ করে দিয়েছি। এখন আমি ছেলের বাড়িতে ফিরে এসেছি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছেলের কাছেই থাকতে চাই। মা হিসেবে এটাই আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া।’

সাগর হোসেন বলেন, ‘ওসি স্যার আমাকে গাড়িতে করে আদালতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। আগে আমি যা বলেছি, তা আবেগের বশে বলেছি, অনেক কথাই মিথ্যা ছিল। এখন বুঝতে পারছি, আমার ভুল হয়েছে। আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি এবং অনুতপ্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন থেকে মাকে সঙ্গে নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চাই। মাকে নিজের কাছে রেখে তাঁর দেখাশোনা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতে চাই।’

এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, বৃদ্ধা মা ও ছেলেকে একসঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এরপরও তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।