ডেস্ক রিপোর্টঃ
দেশে প্রতিবছর হৃদরোগে মারা যায় ৪ লাখ মানুষ। বছরে নতুন আক্রান্ত ১০ লাখের বেশি। অধিকাংশ রোগীরই উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই। হৃদরোগ হাসপাতালের গবেষণা বলছে, হাসপাতালে ভর্তি ৭ থেকে ৮ শতাংশ রোগীর বয়স ৪০ বছরের নিচে। একে ভবিষ্যতের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সঠিক জীবনাচারণে হৃদরোগের ঝুঁকি ৮০ শতাংশ কমানো সম্ভব।
দেশে প্রতিবছর হৃদরোগে মারা যায় ৪ লাখ মানুষ। বছরে নতুন আক্রান্ত ১০ লাখের বেশি। অধিকাংশ রোগীরই উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই। হৃদরোগ হাসপাতালের গবেষণা বলছে, হাসপাতালে ভর্তি ৭ থেকে ৮ শতাংশ রোগীর বয়স ৪০ বছরের নিচে। একে ভবিষ্যতের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সঠিক জীবনাচারণে হৃদরোগের ঝুঁকি ৮০ শতাংশ কমানো সম্ভব।রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে শয্যার সংখ্যা ১২৫০ হলেও প্রতিদিন ভর্তি থাকে সাড়ে ১৫০০ থেকে ১৬০০ রোগী। প্রতিবছর এই হাসপাতালে এক লাখ রোগী সেবা নিলেও বেশিরভাগ হৃদরোগীর ভরসা বেসরকারি হাসপাতাল।
সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা যায়, হাসপাতালটিতে ভর্তি রোগীদের ৭ থেকে ৮ শতাংশের বয়স ৪০ বছরের নিচে, যাকে উদ্বেগজনক বলছেন চিকিৎসকেরা।জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ উল্লাহ ফিরোজ বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে যেসমস্ত রোগীরা হার্ট অ্যাটাক নিয়ে ভর্তি হয়, তাদের শতকরা ৭ থেকে ৮ জন রোগীর বয়স ৪০ বছরের নিচে। তাদের খুব অল্প বয়সে এটা ঘটছে। এইটা কিছুটা আমাদের খাদ্যের অভ্যাস, জেনেটিক, আমাদের দেশের যেসমস্ত খাবার-দাবার, আমাদের যে জীবন-যাত্রা প্রণালি এগুলোর উপর নির্ভর করে অল্প বয়সে হৃদরোগগুলো হচ্ছে আমাদের দেশে।’বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, তামাক সেবন বন্ধ, খাবারে লবণ ও চর্বি কমানো, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি ৮০ শতাংশ কমানো সম্ভব।
পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে এম মহিউদ্দিন ভূঁইয়া মাসুম বলেন, ‘আমাদের যুবক রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে তাদের রক্তে লেল কোল্ডস্টোরেজ অনেক বেশি, অবিসিটি আছে, ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি এর মধ্যে থাকছে না, খাদ্যের অভ্যাস খুব খারাপ, লাইফস্টাইল এমন যে রাত জেগে থাকছে, ঘুম কম হচ্ছে। এগুলো ইচ্ছে করলে মানুষ চেঞ্জ করতে পারে। এগুলো চেঞ্জ করে হৃদরোগকে প্রতিরোধ করুন।’ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, ‘উচ্চ রক্তচাপ যে একটা রোগ এইটাই তারা মানতে চায় না। বেশিরভাগ লোকই এইটা রিকোগনাইজ করার পর ওষুধ ঠিকমতো খায় না। ক্রমাগত বায়ু দুষণ, তামাকের ধোঁয়া, এই জিনিসগুলো কিন্তু হার্ট অ্যাটাকের একটা বিরাট বড় কারণ।
আপনি দেখবেন কিছু না ভালো ছিল হঠাৎ করেই হার্ট অ্যাটাক।’প্রথমবার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ও কারণ নিয়ে গবেষণা করেছে বাংলাদেশ রিস্ক অফ অ্যাকিউট ভাস্কুলার ইভেন্টস বা ব্রেভ। এতে দেখা যায়, ৩৬ শতাংশ হৃদরোগীর বয়স ৫০ বছরের নিচে। তাই, পরিবারের কারও অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকলে আরো বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের।
