কারাগারের ভেতরেই অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করতেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতা।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে বন্দিরা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কারাগারের বাইরের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। কেউ কেউ আবার সেখান থেকেই হুমকি, চাঁদাবাজি ও প্রতারণার মতো অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। সম্প্রতি জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু কারাগারে বসেই অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মাধ্যমে বিভিন্নজনের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে তাঁকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

আরও কয়েকজন প্রভাবশালী বন্দিও কারাগার থেকেই মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বাইরের ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন বলে জানা গেছে।জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, সেখানে এখনো প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করা হয়নি। ফলে স্মার্টফোন চোরাচালান রোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারারক্ষীদের গাফিলতিও এর পেছনে বড় একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।কারাগার কেবল বন্দিদের আটকে রাখার জায়গা নয়—এটি একটি সংশোধন কেন্দ্র। অথচ এখান থেকেই যখন বন্দিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠে, তখন কারাগার অপরাধের আখড়ায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।মানবাধিকারকর্মী আমিনুর রহমান টুকু বলেন, বন্দিদের হাতে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল থাকা শুধু নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয় নয়, এটি সমগ্র আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য হুমকি।

এই প্রযুক্তির অপব্যবহারে কারাগার এখন অপরাধ নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বন্দিরা শুধু অপরাধ সংঘটিত করছে না, বরং বাইরের পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলছে। তাই কারাগারে প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তা না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে।জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. জাকারিয়া বলেন, বিধি অনুযায়ী, বন্দিরা কেবল কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারে। কিন্তু তাদের দ্বারা অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মাধ্যমে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। কারা কর্তৃপক্ষের সহায়তা ছাড়া বন্দিদের পক্ষে এ ধরনের কাজ সম্ভব নয়। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এ বিষয়ে তদন্ত হওয়া জরুরি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার আবু ইউসুফ কোনো মন্তব্য করতে চাননি।তবে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, “বিষয়টি জানার পর কারাগারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।”তিনি আরও জানান, বিভিন্ন সূত্র থেকে বন্দিদের হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কারাগারে যারা এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।