আমার মায়ের কিছুই করতে পারবে না: সজীব ওয়াজেদ জয়।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৮ মাস আগে
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

নিজস্ব প্রতিনিধি:

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মা ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তবে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে নির্বাসনে আছেন এবং সেখানে পুরোপুরি নিরাপদ।রোববার (১৬ নভেম্বর) রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হবে।শেখ হাসিনার মামলার রায় সরাসরি প্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি রায় কী হবে। তারা লাইভ সম্প্রচার করবে, দোষী সাব্যস্ত করবে এবং সম্ভবত মৃত্যুদণ্ড দেবে।’ওয়াশিংটন ডিসি থেকে জয় আরও বলেন, ‘ওরা আমার মায়ের কিছুই করতে পারবে না।

তিনি ভারতে নিরাপদে আছেন এবং ভারত তাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দিচ্ছে।’২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসনে যান। জাতিসংঘের এক রিপোর্টে বলা হয়, সে সময়ের বিক্ষোভে ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়, যার বেশির ভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে।এরপর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচার শুরু হয়। তবে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে এগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই আওয়ামী লীগ দেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে এসেছে। নিষিদ্ধ থাকলে দলের সমর্থকেরা নির্বাচন হতে দেবে না।তার ভাষায়, ‘আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে কোনো নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। আমাদের আন্দোলন আরও কঠোর হবে। আন্তর্জাতিক মহল কিছু না করলে সহিংসতা বাড়বে।

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্ত চলায় নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। সরকারের এক মুখপাত্র জয়ের সতর্কতা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, নির্বাসিত নেতাদের সহিংস উসকানি দায়িত্বজ্ঞানহীন ও নিন্দনীয়।এর আগের এক সাক্ষাৎকারে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জয় বলেছিলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে, নির্বাচন হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুষ্ঠু। বর্তমানে যা ঘটছে, তা মূলত তার মা ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না দেওয়ার প্রচেষ্টা।এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় সহিংসতা বেড়েই চলেছে। রোববার রাজধানীজুড়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। ১২ নভেম্বর একদিনে রেকর্ড ৩২টি বিস্ফোরণ হয়। বাসে আগুন, গ্রেপ্তার, নাশকতা—সবই ছড়িয়ে পড়ছে। নিরাপত্তা জোরদারে মোতায়েন করা হয়েছে ৪০০-এরও বেশি বিজিবি সদস্য। স্কুলগুলো অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে।দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান আল জাজিরাকে বলেন, ‘হাসিনা এখনো বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্পর্শকাতর একটি নাম। তিনি ভারত থেকে অনলাইনে কিছু বললেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।’ তার মতে, জয়ের নির্বাচনে বাধা দেওয়ার হুমকি মূলত সহিংসতারই ইঙ্গিত বহন করে।—