নিজস্ব প্রতিনিধি:
মেঘনা পেট্রোলিয়ামে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। গত তিন দিন ধরে মেঘনার প্রধান কার্যালয়সহ দেশের সব ডিপোতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীরা। তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এই তদন্তের নির্দেশ দেয়।বুধবার বিকেলে বিপিসির পরিচালক (অর্থ) নাজনীন পারভিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের চলমান সময়ে মেঘনা পেট্রোলিয়ামে নিয়মিত নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
ফলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীর সংখ্যা কমতে থাকে। এই ফাঁকেই ঠিকাদারদের অধীনে অস্থায়ী কর্মীদের দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ চালানো হয়। এতে রাষ্ট্রীয় জ্বালানি খাতের সংবেদনশীল কাজ চলে গেছে বহিরাগতদের হাতে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা কমায় লাভের অংশ হিসেবে প্রফিট বোনাস থেকে কর্মচারীরা বেশি টাকা পাচ্ছেন—গত বছর একজন ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত পেয়েছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিবেচনায় ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে সরকার সংশ্লিষ্টদেরও সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এসব ঠিকাদারদের মাধ্যমে আওয়ামী প্রভাবও বৃদ্ধি পেয়েছে জ্বালানি খাতে।বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৪৭টি পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৪ জুলাই ঢাকায় বিএইএম কেন্দ্রে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পরীক্ষায় ১৭ হাজারেরও বেশি চাকরিপ্রত্যাশী অংশ নেন এবং ৯৮১ জন উত্তীর্ণ হন। কিন্তু ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, অন্তত ১৮ জন প্রার্থী পরীক্ষা না দিয়েও পাস করেছেন। চাকরিপ্রত্যাশীরা লিখিত অভিযোগ দিয়ে এই অনিয়মের বিষয়টি নিয়োগ বোর্ডের নজরে আনেন।বিশেষ করে, পাম্প অপারেটর, অদক্ষ জনবল, পিয়ন, সিকিউরিটি ও ফায়ার ফাইটার পদে কয়েকজন পরীক্ষায় উপস্থিত না হয়েও ফলাফলে পাস দেখানো হয়। এর মধ্যে আছেন মেঘনা সিবিএ সভাপতি মো. আইয়ুবের ছেলে সোয়াবুল ইসলাম সিজল, বিপিসি চেয়ারম্যানের আস্থাভাজন পিয়ন ওমর ফারুক এবং তার ছেলে ওমর বিন সাদনান সিফাত—যারা সবাই একই সঙ্গে পাস করেছেন বলে ফলাফলে উল্লেখ আছে।এইসব অসংগতি তুলে ধরে চাকরিপ্রত্যাশীরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন।
অন্যদিকে বিতর্কিত এই নিয়োগের প্রতিবাদে অস্থায়ী কর্মচারীরাও লাগাতার কর্মসূচি পালন করেছেন।পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং বিষয়টি নতুন করে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।তবে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু সুলতান এবং এইচআর বিভাগের জিএম ইনাম ইলাহী চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁরা সাড়া দেননি। অফিসের টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে এমডির পিএ মাহফুজুর রহমান জানান, তিনি এমডির সঙ্গে কথা বলে জানাবেন। কিন্তু এরপর আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।—প্রয়োজনে এ লেখাটি সংক্ষেপ বা প্রসারিত করে দিতে পারি।
