নিজস্ব প্রতিনিধি:
যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার কোনো ইচ্ছা রাখে না। সম্প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তেহরান তাদের পারমাণবিক উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানে আছে।ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র বলেছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসবে না। তবে ইসরায়েল যদি তাদের অবৈধ আগ্রাসন বন্ধ করে, তাহলে ইরান সাময়িকভাবে তাদের প্রতিক্রিয়া কমিয়ে আনতে পারে। এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ইরান শর্তসাপেক্ষে শান্তিচুক্তির পথে যেতে আগ্রহী, কিন্তু তাদের মূল পারমাণবিক পরিকল্পনা থেকে তারা একদমই সরবে না।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েল আগ্রাসন বন্ধ করলে তারা আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত। তবে তাদের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা কোনোভাবেই ছাড়বে না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই ঘোষণা যুদ্ধবিরতির অধীনে সাময়িক শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা হলেও দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। তাদের মতে, তেহরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনা অক্ষত রেখে যুদ্ধবিরতির সময়কে কৌশলগত পুনর্বিন্যাস ও শক্তি বৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করবে।এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়নি এবং ইউরেনিয়ামের বড় অংশ অক্ষত রয়েছে। এর ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান খুব দ্রুত তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় সক্রিয় করতে সক্ষম হবে।ইরানের স্পষ্ট বার্তা হলো, তারা পারমাণবিক ক্ষমতা অর্জনের জন্য তাদের প্রচেষ্টা থামাবে না এবং প্রয়োজন পড়লে তা রক্ষা করতে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার এই মূল কেন্দ্রে ইরানের এই অবস্থান ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
