বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে ক্রিকেট ও ফুটবলের বাইরে অন্যান্য খেলায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের আর্থিক অবস্থার দুরবস্থা প্রায়ই চোখে পড়ে। অনেক প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ অর্থসংকট এবং সামাজিক মর্যাদার অভাবে খেলাধুলা থেকে সরে দাঁড়ান। কেউ কেউ দেশ ছাড়তেও বাধ্য হন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশের আরচ্যারির দুই তারকা, রোমান সানা এবং দিয়া সিদ্দিকী, দেশত্যাগের পথে।
২০২১ সালে বিশ্ব আরচ্যারি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে বাংলাদেশ দল যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল। সেই দলের দুই সদস্য, অসীম কুমার ও আব্দুল হাকিম রুবেল, ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হয়েছেন। এবার রোমান-দিয়া দম্পতিরও একই পথে পা বাড়ানোর খবর পাওয়া গেছে। যদিও এই বিষয়ে তারা সরাসরি কোনো বক্তব্য দেননি, তবে ঘনিষ্ঠজন এবং আরচ্যারি সংশ্লিষ্টরা তাদের যুক্তরাষ্ট্র যাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রোমান সানা বাংলাদেশ আনসারে চাকরি করলেও সেখানে তার আয় খুব সীমিত ছিল। বিয়ের পর এই আয়ে পরিবার চালানো তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময়ও অনুশীলন ও ভ্রমণ ছাড়া তেমন কোনো আর্থিক সুবিধা পেতেন না। একপর্যায়ে হতাশা থেকে তিনি জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন এবং ফেডারেশনের সঙ্গেও মতবিরোধে জড়ান। পরবর্তীতে অবসর ভেঙে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও এখনও দলে ফিরতে পারেননি।
দিয়া সিদ্দিকী দেশের অন্যতম সেরা নারী আরচ্যার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে পড়াশোনা করছিলেন। তার বাবা নীলফামারীর একজন স্থানীয় সাংবাদিক। রোমান এবং দিয়ার দাম্পত্য জীবন প্রায় দুই বছরের। এই সময়ে তারা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে।
বাংলাদেশ আরচ্যারি দলের জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক তাদের সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়ে বলেছেন, “তারা দেশের শীর্ষ আরচ্যার। আমাকে কিছুই জানায়নি। এটা সত্যি হলে, আমি হতবাক হবো।”
বাংলাদেশ আরচ্যারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিবউদ্দিন আহমেদ চপল জানিয়েছেন, “তারা ছুটিতে ছিল। দেশের বাইরে যাওয়ার কথা শুনেছি, তবে কোন দেশে এবং কী উদ্দেশ্যে, সেটা তারা জানায়নি।”
এভাবে দেশের মেধাবী ক্রীড়াবিদদের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে বিদেশে চলে যাওয়া শুধু তাদের জন্য নয়, দেশের জন্যও বড় এক ক্ষতি।
