ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির এক বছর আগেই বিয়ে করেছিলেন।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

মাত্র এক বছর আগে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত এক শিক্ষিকাকে বিয়ে করেছিলেন বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম। আজ ছিল তার প্রথম এককভাবে বিমান চালনার দিন। ছেলের এই অর্জনে দারুণ আনন্দিত ও গর্বিত ছিলেন তার বাবা-মা।

সোমবার (২১ জুলাই) বিকেলে দুর্ঘটনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম।

জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর উপশহর তিন নম্বর সেক্টরের ‘আশ্রয়’ নামের একটি তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তৌকিরের পরিবার। সেখানে তার বাবা তহুরুল ইসলাম, মা সালেহা খাতুন, ছোট বোন সৃষ্টি ও বোনের স্বামী থাকতেন।

বাসার মালিক আতিকুল ইসলাম জানান, তৌকির ইসলাম সাগরের প্রথম একক প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের খবর শুনে পরিবারের সবাই ছিলেন খুব আনন্দিত ও উৎফুল্ল। তবে দুপুরের পরই তারা বিমান বিধ্বস্তের খবর পান। তখন জানা যায়, সাগর জীবিত রয়েছেন এবং সিএমএইচে চিকিৎসাধীন।

তিনি আরও জানান, সাগরকে দেখতে ঢাকা যেতে চাওয়ায় বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের জন্য একটি এয়ারক্রাফটের ব্যবস্থা করা হয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে র‌্যাবের একটি মাইক্রোবাসে করে তাদের রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে তারা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

তৌকির ইসলাম সাগরের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট এলাকায়। তার বাবা তহুরুল ইসলাম একজন আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী। তৌকির রাজশাহী সরকারি ল্যাবরেটরি হাইস্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন এবং পরে ভর্তি হন পাবনা ক্যাডেট কলেজে। এক বছর আগে তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে বিয়ে করেন।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুর ১টার পর রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানটি উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এতে পাইলটসহ অন্তত ২০ জনের প্রাণহানি ঘটে।