নিজস্ব প্রতিনিধি:
তিনি বলেছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য কাজ চলছে। একইসঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে নাগরিকবান্ধব সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ আর কখনো স্বৈরশাসনের পথে ফিরবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। দলমত নির্বিশেষে গঠিত জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই দেশের গণতন্ত্র ও সংস্কার কার্যক্রম টেকসই হবে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। জাতিসংঘে সরকার প্রধান হিসেবে এটি ছিল তার দ্বিতীয় ভাষণ।ড. ইউনূস বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবিতে ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম। কিন্তু সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম গত ৫০ বছরে বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। জনগণকে বহুবার অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ করতে হয়েছে।
রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু নির্বাহী আদেশে সংস্কার চালানো সম্ভব হলেও সরকার বেছে নিয়েছে কঠিন পথ—অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এ জন্য বিচার বিভাগ, শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন, জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন ও নারী অধিকারসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতে ১১টি স্বাধীন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, এসব কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়তে ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও জোটকে নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত জুলাইয়ে সব দল মিলে ‘জুলাই ঘোষণা’র মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রমে সময় নির্ধারিত অঙ্গীকার করে।ড. ইউনূস আরও বলেন, দেশের পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। গত ১৫ বছরে শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, আমাদের প্রধান লক্ষ্য সেই অর্থ ফেরত আনা। এ সময় যেসব দেশ ও প্রতিষ্ঠান এই টাকা গচ্ছিত রেখেছে, তাদের তা ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
