গাজায় তীব্র খাদ্য সংকট: খাবারের অভাবে কংকাল হয়ে মারা যাচ্ছে গাজার মানুষ।
লেখক:
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ১ বছর আগে
গাজা, ২৬ জুলাই ২০২৫। নিজস্ব প্রতিনিধি:
টানা ইসরাইলি সামরিক আগ্রাসন ও অবরোধের মুখে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি গাজা উপত্যকার সাধারণ মানুষ। গোলা-বারুদের ক্ষতিকে পেছনে ফেলে এবার সামনে এসেছে আরও বিভীষিকাময় এক চিত্র—খাবারের অভাবে মানুষ কংকাল হয়ে শুকিয়ে মারা যাচ্ছে।
▶️ ক্ষুধা এখন নীরব ঘাতক
গত কয়েক সপ্তাহে গাজার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে অন্তত এক ডজন ব্যক্তি অপুষ্টি ও অনাহারে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য সূত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে কয়েকটি হৃদয়বিদারক ছবি, যেখানে বৃদ্ধ, নারী ও শিশুদের কঙ্কালসার দেহগুলো চিকিৎসাহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
একটি ঘটনায়, গাজার শুজাইয়া এলাকায় এক বৃদ্ধা নিজের ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছেন। দীর্ঘ অনাহারে তার শরীর থেকে চামড়া ঝুলে পড়ছিল, শুধু হাড় ও খুলি দৃশ্যমান ছিল।
▶️ ত্রাণ নেই, রাস্তা নেই, বাঁচার পথ নেই
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর টানা অবরোধ ও বোমাবর্ষণে ধ্বংস হয়ে গেছে সড়ক, ব্রিজ ও খাদ্য গুদাম। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো সাহায্য পৌঁছে দিতে পারছে না। গাজা এখন কার্যত একটি “উন্মুক্ত মৃত্যু শিবির”-এ পরিণত হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা (OCHA) জানিয়েছে, গাজার অন্তত ১০ লাখ মানুষ বর্তমানে “চরম খাদ্য সংকটে” রয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) মুখপাত্র বলেছেন:
“মানুষ এখন শুকনো রুটির টুকরো কিংবা পঁচা ফল খেয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে। অনেক শিশু দিনে একবারও খেতে পাচ্ছে না।”
▶️ চিকিৎসা ও আশ্রয়হীন হাজারো মানুষ
বোমা হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ির কারণে লাখো মানুষ আশ্রয়হীন। অস্থায়ী শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতেও নেই পর্যাপ্ত খাবার বা ওষুধ। বহু শিশু অপুষ্টিজনিত কারণে হাঁটতে বা কথা বলতে পারছে না। হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুৎ ও চিকিৎসা সামগ্রীর অভাবে রোগীরা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।
▶️ মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন এই পরিস্থিতিকে ‘ইচ্ছাকৃত মানবিক ধ্বংসযজ্ঞ’ বলে অভিহিত করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে বলেছে:
“ইসরাইলের অবরোধ শুধুমাত্র একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়, এটি সাধারণ নাগরিকদের খাদ্য ও জীবন থেকে বঞ্চিত করার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
▶️ বিশ্ব নীরব, গাজা জ্বলছে
যেখানে একটি মানুষের একদিন না খেয়ে থাকা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়, সেখানে গাজায় প্রতিদিন মানুষ না খেয়ে মরছে—তবুও বিশ্ব নেতাদের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো দেখা যাচ্ছে না। মানবিক করিডোর খোলা কিংবা যুদ্ধবিরতির দাবি থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।