আলোক স্বল্পতায় আতঙ্কিত দেশের প্রথম দ্বিতল স্টেশনের যাত্রীরা

লেখক: খাইরুল ইসলাম
প্রকাশ: ১ বছর আগে
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

অন্ধকারে নিমজ্জিত দেশের প্রথম দ্বিতল স্টেশন আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন। রাতে এসব স্টেশনে বাড়ছে মাদকসেবীদের আনাগোনা সেই সাথে প্রায়ই ঘটছে চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা। মূল ভবনের সিঁড়িতে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় আতঙ্কে ওঠানামা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। দেশের ঐতিহাসিক এ স্টেশনে দ্বিতীয় প্ল্যাটফর্মেও নেই কোন যাত্রীছাউনি । যে ছাউনি ছিলো সেটা ঘূর্ণিঝড় আয়লায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরে আজ পর্যন্ত সংস্কার হয়নি। ফলে বৃষ্টির মধ্যে ঢাকা এবং রাজশাহীগামী ট্রেনে উঠতে গেলে বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে যাচ্ছেন যাত্রী সাধারণ। এ যাত্রীদের মধ্যে কিছু অসুস্থ রোগী থাকে, যারা রাজশাহী এবং ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য যাতায়াত করে আর এই অসুস্থ রোগীদের ট্রেনে ওঠার সময় বর্ষাকালে বৃষ্টির জলের সাথে চোখের জল মিশে একাকার হচ্ছে প্রতিনিয়তই । সাথে ছোট্ট প্লাটফর্ম হওয়ায় যাত্রী উঠা নামার সময়ও ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে অসুস্থ ও বৃদ্ধ যাত্রীদের। এছাড়াও মাঝ রাতে ঢাকাগামী ট্রেনে রওনা হওয়ার সময় প্ল্যাটফর্ম পারাপারে যাত্রীদের চোখে মুখে যেন আতঙ্কের ছাঁপ লেগেই থাকে।দিন যতো যাচ্ছে ততোই পকেটমার, ছিনতাই, মাদকাসক্তদের আড্ডায় পরিনিত হচ্ছে স্টেশনটি। পাশাপাশি আলমডাঙ্গা রেলস্টেশন থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত সড়কে ল্যাম্পপোস্টের লাইটগুলো নষ্ট হওয়ায় এ রাস্তায় অন্ধকারে মাদকসেবিদের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে । ফলে স্টেশনে যাত্রীরা দিনে কোনমতে চলাচল করলেও রাতের অন্ধকারে আতঙ্কের মধ্যে বাধ্য হয়ে চলাচল করতে হয় । দেশের প্রাচীনতম ও ঐতিহাসিক রেল স্টেশনটি কর্তৃপক্ষের সচেতনতা, অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দিন দিন এর সুনাম নষ্ট হতে চলেছে। এমনকি এ স্থাপত্যের মূল ভবনের জায়গায় জায়গায় পরগাছা জন্মেছে সাথে সিঁড়ি ও দেওয়ালের অবস্থায়ও বেহাল দশা । যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা এবং পোড়াদহ স্টেশন থেকে প্রতিদিন ৪/৫ টি মোবাইল ফোনসহ লক্ষধিক টাকা পকেটমার বা ছিনতাই হয়।
সম্প্রতি সময়ে আসমাউল নামের এক ডিজিএফআইয়ের সদস্য ছুটিতে বাড়িতে এসে গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে যশোরে যাওয়ার সময় আলমডাঙ্গা স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠার সময় পকেট থেকে মোবাইল চুরি হয়ে গেছে ।
ঘটনাসমূহ শুধু সাম্প্রতিক সময়ের নয়, বরং বছরের পর বছর নিয়মিত ঘটে আসছে।মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে যাতায়াত করে।

বিশেষ করে বৃটিশ আমলের ঐতিহ্যবাহী আলমডাঙ্গা স্টেশনে সন্ধ্যার পর বসে মাদকসেবিদের আড্ডা। প্রশাসন থেকে স্টেশন কর্তৃপক্ষ, সবাই এগুলো জানলেও তেমন কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না।