সাপে কামড়ালে আপনার কি করা উচিত ?

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১ বছর আগে

বিশেষ প্রতিবেদন:

সাপের এন্টিভেনম আসলে ককটেল ধরনের ওষুধ। যে সাপই কামড়াক না কেন, এন্টিভেনম একটাই ব্যবহার করা হয়।তাই সাপ চিনে ফেলার প্রয়োজন নেই—ওঝার কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া সবচেয়ে জরুরি।বাংলাদেশে সাধারণত ৪ ধরনের বিষধর সাপের কামড় দেখা যায়:

১. পদ্ম গোখরা (Neurotoxin

২. খয়া গোখরা (Neurotoxin)

৩. কালাচ (Neurotoxin)

৪. রাসেলস ভাইপার (Hemotoxin)

এই চার ধরনের সাপের বিষ একত্র করে এন্টিভেনম তৈরি করা হয়। ফলে, যেকোনো সাপের কামড়েই একই এন্টিভেনম কার্যকর।👉 এছাড়া আমাদের দেশে শঙ্খচূর (Banded Krait) নামে কালো-হলুদ ডোরা কাটা একধরনের সাপ পাওয়া যায়, যা অত্যন্ত বিষধর। তবে এখন পর্যন্ত এ সাপের কামড়ের কোনো নজির পাওয়া যায়নি।

-কী করা উচিত নয়ঃ কামড়ের স্থানে বাঁধন দেওয়া উচিত নয়। এতে কোনো উপকার হয় না, বরং রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে অঙ্গ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে রাসেলস ভাইপার কামড়ালে হেমোটক্সিনের কারণে অঙ্গ হারানোর ঝুঁকি বেশি থাকে।ক্ষতস্থানে ব্লেড দিয়ে চিরে ফেলা যাবে না। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে মৃত্যু হতে পারে।

—মনে রাখুনঃ সাপের কামড়ে আতঙ্কিত হবেন না। সময়মতো এন্টিভেনম নিলে বাঁচার সম্ভাবনা প্রায় ১০০%।আতঙ্কে হার্ট ফেলিওর হয়ে মৃত্যু হওয়ার ঝুঁকি থাকে।কালাচ সাপের কামড়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়। কারণ এরা রাতে মানুষের শোবার জায়গায় চলে আসে। তাদের কামড়ে ব্যথা বা জ্বালা হয় না, দাঁতের দাগও বোঝা যায় না বলে অনেকেই টের পান না। তাই মেঝেতে না ঘুমিয়ে, সবসময় মশারি টানিয়ে ঘুমানো উচিত।

–⭐ সর্বোপরি, যে সাপই কামড়াক—ওঝার কাছে যাবেন না।আপনাকে বাঁচাতে পারে শুধু এন্টিভেনম, এর বাইরে আর কিছুই নয়।-