পুলিশের ৪০তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ব্যাচ থেকে অব্যাহতি পাওয়া সদস্যরা দ্বিতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে।
আজ মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর সচিবালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে উসমানী উদ্যান সংলগ্ন সড়কে এই অনশন কর্মসূচি চলছে। এর আগে সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
অব্যাহতি পাওয়া এসআই সদস্য নিশিকান্ত বলেন, “আমাদের মনে হচ্ছে আমরা অভিভাবকহীন। রাষ্ট্র আমাদের নাগরিক হিসেবে দেখে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ হচ্ছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।” তিনি আরও জানান, ৪৩তম বিসিএস-এ যারা বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের বার্তা পুলিশের মাধ্যমে পৌঁছাচ্ছে, কিন্তু তাদের বার্তা সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
কল্যাণ সরকার নামে আরেকজন সদস্য বলেন, “আমরা এক বছর প্রশিক্ষণ নিয়েছি। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ আমাদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হলো। আমার পেছনে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। বাবাও ছিলেন সেনাবাহিনীর সদস্য। আমি এমন প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করেছি, যেখানে রাজনীতির কোনো স্থানই ছিল না।”
অন্য এক অব্যাহতি পাওয়া সদস্য রবিউল রবি বলেন, “আমাদের ভাই-বোনেরা যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরিতে সুযোগ পেয়েছেন। অথচ আজ তারা ঢাকার শীতে রাস্তায় অনশন করছেন। এরপরও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো সহানুভূতি নেই।” তিনি আরও বলেন, “আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের কাছে গিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানে আমাদের কথা বলার সুযোগ হয়নি।”
অন্যদিকে, ক্যাডেট এসআই সুবীর বলেন, “আমরা জানি না কী দোষে আমাদের এত বড় শাস্তি দেওয়া হলো। আমাদের ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে। আমরা চাই, এই যন্ত্রণার অবসান হোক।”
এর আগে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ৩১০ জন এসআইকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাদের দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছিল, তারা প্রশিক্ষণ চলাকালে একাডেমির নিয়ম ভেঙে প্যারেডের সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। এর অংশ হিসেবে নির্ধারিত নাশতা গ্রহণ না করে হৈচৈ করেন এবং অনুমতি ছাড়াই প্রশিক্ষণ মাঠ থেকে বের হয়ে ব্যারাকে ফিরে যান।
