বিপৎসীমার ওপরে মেঘনার পানি, উপকূলীয় এলাকায় জলাবদ্ধতা।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে চাঁদপুরের মেঘনা উপকূলবর্তী এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় পানি প্রায় ৩ ফুট বেড়ে গেছে। ফলে অনেক এলাকায় সড়ক, পুকুর ও বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জোয়ারের সময় মেঘনার পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মেঘনার পানি হঠাৎ করে বেড়ে যায়। এতে করে চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার নদী-উপকূলবর্তী অঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ে। শহর রক্ষা বাঁধসংলগ্ন পুরানবাজার এলাকায় নদীর পানি সড়কের সমতলে পৌঁছে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, “গতকাল পানির উচ্চতা তুলনামূলক কম ছিল, কিন্তু আজ বিকেল থেকে বাতাসের তীব্রতার সঙ্গে নদীতে ঢেউও বেড়ে গেছে। তখনই দোকানে পানি উঠে যায়। বাধ্য হয়ে দোকানের মালামাল সরিয়ে নিয়েছি।”

সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নের হরিণা ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা মনির শেখ জানান, “ফেরিঘাট এলাকায় এখন পানি রাস্তার সমান। আশপাশের নিচু জায়গাগুলোতেও পানি ঢুকেছে।”

চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ গাজী বলেন, “সেচ প্রকল্পের বাইরে যেসব বাড়ি, রাস্তা ও পুকুর আছে, সবই পানির নিচে চলে গেছে। আমার পুকুরেও মাছ ছিল—পানির স্রোত এতটাই যে পুকুরের ওপরে দিয়ে বয়ে যাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, “বাতাসের তীব্রতা বাড়ার পরই পানির উচ্চতা বেড়েছে। এতে মাছ চাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে, এমনকি পাকা রাস্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”

চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “সেচ প্রকল্পের বাইরের মাছচাষিদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি এবং তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে মাছ নিরাপদে রাখা যায়।” হাইমচর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ‘সংবাদ সারাক্ষণকে বলেন, “চলতি মাসের মিটিংয়েই আমরা মৎস্য চাষিদের সতর্ক করে দিয়েছিলাম যে ২৪ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত পানি বাড়বে। এরপরও উপজেলা মৎস্য বিভাগ থেকে জেলেদের সতর্ক করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

চাঁদপুর আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক কর্মকর্তা শাহ্ মো. শোয়েব বলেন, “নিম্নচাপের কারণে জোয়ারের পানি ১ থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে—এমন সতর্কবার্তা আমরা আগেই দিয়েছি।”

পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহরুল হক জাগো নিউজকে বলেন, “আমরা নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধির বিষয়টি অবগত এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতাও অবলম্বন করেছি। তবে মেঘনায় পানি বাড়লেও সাধারণত এটি দীর্ঘস্থায়ী হয় না।”