দীর্ঘ বিরতির পর ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পূর্ণমাত্রায় পর্যটক ভিসা চালু করছে বাংলাদেশ।

লেখক: এমরানুর রেজা
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

দীর্ঘ বিরতির অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পুনরায় পূর্ণমাত্রায় পর্যটক ভিসা ইস্যু শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সোমবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ঢাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন, নয়াদিল্লি এবং কলকাতা ও মুম্বাইয়ে অবস্থিত ডেপুটি হাইকমিশনগুলো প্রাক-কোভিড সময়ের মতো নিয়মিত ও পূর্ণমাত্রায় ভিসা প্রদান করবে।

গত ২২ ডিসেম্বর বিশেষ পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন সাময়িকভাবে সব ধরনের কনস্যুলার সেবাসহ ভিসা প্রদান স্থগিত করেছিল। নতুন এই সিদ্ধান্তকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে আস্থা পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এটি কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নেওয়ার একটি কৌশলগত বার্তা।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্থবির থাকলেও নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তা পুনরায় গতি পাচ্ছে। চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ বলেন, সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে উভয় দেশকেই পারস্পরিক আস্থা ও ছাড় দেওয়ার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

তবে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা চালুর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন, ঢাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

এদিকে সম্ভাব্য ভিসা চালুর খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরাও। স্বনামধন্য লেখক স্বকৃত নোমান সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ভারত সফরের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গেও নিজেকে উত্তরাধিকারী মনে করেন উল্লেখ করে তিনি ত্রিপুরা ও আসাম সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, ডুয়ার্স, দার্জিলিং, মুর্শিদাবাদ ও শান্তিনিকেতন ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তার। কলকাতায় সাহিত্যিক বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা এবং কলেজ স্ট্রিটে সময় কাটানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, পর্যটক ভিসা পুনরায় চালুর এ উদ্যোগ দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও আস্থার সম্পর্ক জোরদারে নতুন গতি সঞ্চার করবে। দীর্ঘ বিরতির পর এমন পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে আরও উষ্ণ ও প্রাণবন্ত করে তুলবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।