কুমিল্লার হোমনায় ৪ মাজারে হামলা: ২২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চারটি মাজারে হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ২ হাজার ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে হোমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাপস কুমার সরকার বাদী হয়ে এ মামলা করেন।এসআই তাপস কুমার সরকার গণমাধ্যমকে জানান, সংঘবদ্ধভাবে ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ২২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত চলছে, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।এর আগে বৃহস্পতিবার হোমনার আসাদপুর ইউনিয়নের আসাদপুর গ্রামে চারটি মাজারে হামলা চালানো হয়। হামলার শিকার মাজারগুলো হলো— অভিযুক্ত মহসীনের দাদা কফিল উদ্দিন শাহ্ মাজার, তার পাশের আবদু শাহ্ মাজার, কালাই (কানু) শাহ্ মাজার এবং হাওয়ালি শাহ্ মাজার।হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, ‘বেমজা মহসিন’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে বুধবার সকালে ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে থানার সামনে বিক্ষোভে নামেন এবং অভিযুক্তের শাস্তি দাবি করেন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওসি জানান, বুধবার দুপুরে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা হোমনা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। কিন্তু এরপর উত্তেজিত জনতা চারটি মাজারে হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষেমালিকা চাকমা জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। অভিযুক্ত মহসীনকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১১টার দিকে ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিয়ে কটূক্তি করা হয়।

এরপর এলাকাবাসী মহসীনের গ্রেপ্তারের দাবি জানালে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নেয়।পরে উত্তেজিত জনতা মহসীনের বাড়ি ও কফিল উদ্দিন শাহ্ মাজারে হামলা চালায়। মাজারের চারপাশের তিনটি ঘর ও আসবাবপত্র পুড়িয়ে দেয়। এরপর তারা মিছিল নিয়ে বাকি তিনটি মাজারেও ভাঙচুর চালায়।