নিজস্ব প্রতিনিধি:
আজ ১৯ সেপ্টেম্বর,২০২৫। আমাদের মাঝে নেই মুন্সিগঞ্জ নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও লেখক ডা. আবদুস সাত্তার। গত বছর এই দিনে, অর্থাৎ ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি ৮৭ বছর বয়সে লন্ডনে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। তার প্রয়াণে জাতি হারিয়েছে একজন দূরদর্শী শিক্ষানুরাগী, যিনি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় রেখে গেছেন অসামান্য অবদান। তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি তার কর্মময় জীবন ও জনহিতকর কাজ।
এক বর্ণিল জীবনের প্রতিচ্ছবি১৯৩৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে জন্ম নেওয়া ডা. আবদুস সাত্তার তার শিক্ষাজীবনে মেধা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। মেহেরপুর উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে সফলতার সাথে পড়ালেখা শেষ করার পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। লন্ডনে তিনি ধাত্রীবিদ্যা ও স্ত্রীরোগ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং একজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবেও কাজ করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা ও সমাজসেবায় অবদানডা. আবদুস সাত্তার শুধু একজন চিকিৎসকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিকও। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি লন্ডনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি প্রবাসে প্রথম ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন এবং প্রবাসী চিকিৎসক সমিতির স্থানীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, তিনি লন্ডনে ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে দেশের জন্য অনেক জনহিতকর কাজ করেছেন।
শিক্ষানুরাগী ও লেখক হিসেবে তার অবদানমুন্সিগঞ্জে শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে ডা. আবদুস সাত্তারের অবদান অবিস্মরণীয়। ১৯৯৫ সালে তিনি তার পিতা-মাতা সিদ্দিক হোসেন ও নিগার বেগমের নামে ‘নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও, গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা করার জন্য তিনি ‘ড. আবদুস সাত্তার ফাউন্ডেশন’ নামে একটি শিক্ষাবৃত্তি চালু করেন, যা আজও অসংখ্য শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করছে।চিকিৎসা ও সমাজসেবার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন প্রতিভাবান লেখক।
তার লেখা পাঁচটি বইয়ের মধ্যে ‘দেশে দেশে’, ‘জাপান থেকে মেক্সিকো’ এবং ‘আলাস্কা থেকে ও কানাডার রকি পর্বত’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার লেখনি ভ্রমণপিপাসু ও জ্ঞানান্বেষী পাঠকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।মৃত্যুকালে ডা. আবদুস সাত্তার তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। তার আদর্শ ও কর্ম আমাদের মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবে।
