কচুরিপানা-ঘাসে ভরা জমি, আমন চাষে দুশ্চিন্তায় হোসেনপুরের কৃষক ।

লেখক: মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম ফকির
প্রকাশ: ১ বছর আগে

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:হোসেনপুরে চলতি আমন মৌসুমে চাষের আগেই বহু জমি কচুরিপানা ও ঘাসে ঢেকে গেছে। ফলে হালচাষ তো দূরের কথা, জমি প্রস্তুত করতেই পারছেন না কৃষকরা। এতে সময়মতো আমন চারা রোপণ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।উপজেলার দক্ষিণ গোবিন্দপুর, সিদলা, পুমদী, পানান, মাধখলা ও লাখুহাটি এলাকার নিচু জমিগুলোতে এমন চিত্র দেখা গেছে। বর্ষার পানি জমার পরপরই কচুরিপানার সঙ্গে সঙ্গে জমিতে ঘন হয়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রকার জলজ ঘাস। কোথাও পুরো মাঠজুড়ে সবুজ ঘাস, কোথাও আবার কচুরিপানার আস্তরণে জমির মাটি দেখা যাচ্ছে না।দক্ষিণ গোবিন্দপুরের কৃষক সোহরাব মিয়া  বলেন, “ধানের চারা রেডি, কিন্তু জমিতে হালই দিতে পারছি না। আগে এসব কচুরিপানা আর ঘাস তুলতে হবে—না হলে চাষই সম্ভব না।”সিদলা এলাকার কৃষক রেনু মিয়া বলেন, “পানি কমেছে ঠিকই, কিন্তু ঘাস আর আগাছা জমির উপর পুরো দখল কইরা রাখছে। পরিষ্কার করতে শ্রমিক লাগবে, সময় লাগবে—সাথে খরচও বেশি।”পানান এলাকার একজন প্রবীণ কৃষক জামাল মিয়া জানান, “আগে জমিতে এমন সমস্যা হইতো না। এখন বৃষ্টি আর কচুরিপানার কারণে ধান লাগানোই পিছায়া যাইতেছে।”হোসেনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একেএম মোহাম্মদ শাহজাহান কবির বলেন, “জুলাইয়ের শেষে অথবা আগস্ট মাসে পুরোদমে আমন ধানের চারা রোপণ করা হয়। এই সময়ের আগে জমি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা জরুরি। জমিতে ঘাস বা জলজ আগাছা থাকলে তা অবশ্যই সরিয়ে ফেলতে হবে। প্রয়োজনে যান্ত্রিকভাবে বা আগাছানাশক প্রয়োগ করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা কৃষকদের নির্দেশনা দিয়েছি যেন সময়মতো চারা রোপণ করা যায়। ”জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে ফলনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।