হোসেনপুরে খাল দখল-জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত কৃষক, দায়সারা মনোভাব দায়িত্বশীলদের।

লেখক: মোঃ খায়রুল ইসলাম ফকির
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় বগারা খাল দখল করে বহুতল মার্কেট, বসতবাড়ি ও ফিশারি নির্মাণের মাধ্যমে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা। এতে খালের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়েছে। কৃষকের জন্য আশীর্বাদ হয়ে থাকা এ খাল এখন পরিণত হয়েছে জলাবদ্ধতার মরনফাঁদে। শত শত একর ফসলি জমি দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধ থাকলেও দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ফলে নতুন করে দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বর্তমানে খালের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, খালের পানি দিয়ে সেচ দিতে না পারায় খালের দুই পাড়ের নিরীহ কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের হাতে দখলকারীদের তালিকা থাকা সত্ত্বেও উচ্ছেদ না করায় তারা জমি রেকর্ডের অজুহাতে সরকারি খাল দখল করে যাচ্ছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রায় ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালের বিভিন্ন অংশে ফিশারি তৈরি করে টুকরো টুকরো করে ফেলছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

সিদলা ইউনিয়নের ধলাপাতা গ্রামের কৃষক রুকন উদ্দিন রতন (৬০) বলেন, “আমাদের বাপ-দাদারা বলতেন, এ খাল দিয়ে একসময় নৌকা চলাচল করত। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান খালটি খননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তখন প্রস্থ ছিল একশ ফুটের বেশি। কিন্তু ২০০০ সালের পর থেকে প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা খালটি দখল করতে শুরু করে। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সানুজ্জিয়াল গ্রামের কৃষক আরিফুল ইসলাম বলেন, “খাল দখলকারীরা বিগত সরকারের প্রভাবশালী মহলের লোক হওয়ায় আমরা ভয়ে কিছু বলতে পারিনি।

জিনারী, বিলবাগমারা, হলিমা, ধলাপাতা, রামেশ্বরপুর, তারাপাশা, কালিয়ান, সানুজ্জিয়াল, দশধারসহ আশপাশের এলাকার তিন ফসলি জমি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধ থাকে এবং শুকনা মৌসুমে সেচের অভাবে অনাবাদি পড়ে থাকে। এতে দরিদ্র কৃষকেরা সেচ দিয়ে ফসল উৎপাদন করতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে অতিবৃষ্টিতে জমিতে পানি আটকে গিয়ে ফসল নষ্ট হচ্ছে। কৃষক মোশারফ হোসেন, হেলাল উদ্দিন, শাহ আলম, তফাজ্জল হোসেন, কাঞ্চন মিয়া, মতি মিয়া, শহীদ মিয়া ও শফিকুল ইসলামসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, “স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের কাছে বহুবার অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল পাইনি।

কিশোরগঞ্জ জেলা পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর সাধারণ সম্পাদক ও প্রভাষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, “খালের জমি উদ্ধার করে পুনঃখনন করা গেলে কৃষিজমি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হবে, সেচ সুবিধা বাড়বে এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও ফিরে আসবে। কিশোরগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, “খালটি দখলমুক্ত করে খননের জন্য মহাপরিচালকের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”