অবশেষে গাজায় ত্রাণ পৌঁছালো, এর আগেই অনাহারে ২৯ জনের মৃত্যু।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১ বছর আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সংকট চরমে অবশেষে গাজায় ত্রাণবাহী ৯০টি ট্রাক প্রবেশ করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হস্তান্তরে। তবে গত দুই দিনে অনাহারে আরও ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই শিশু। পর্যাপ্ত ত্রাণের অভাবে গাজায় অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।ত্রাণ সরবরাহ ও বর্তমান পরিস্থিতিইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অবরোধ শিথিল করার তিন দিন পর জাতিসংঘের দলগুলোর কাছে এই ত্রাণ হস্তান্তর করেছে। স্থানীয় সময় বুধবার (২১ মে) রাতে কেরেম শালোম ক্রসিং থেকে ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো ওয়্যারহাউসে নেওয়া হয়। তবে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত দুই দিনে অনাহারে মারা যাওয়া ২৯ জনের বেশিরভাগই শিশু। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাজেদ আবু রমজান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে গাজার প্রায় ২১ লাখ মানুষ চরম অনাহারের মুখে পড়বে এবং অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে। মৌলিক খাবারের ঘাটতি এবং আকাশছোঁয়া দামের কারণে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠছে। জাতিসংঘ সমর্থিত ইনটিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশনের এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক মাসে ৫ লাখ মানুষ অনাহারের মুখে পড়তে পারে।ত্রাণের অপ্রতুলতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাবিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, গাজার জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার টন খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ৬ হাজার ট্রাক ত্রাণ প্রস্তুত করে রেখেছে। এই পরিমাণ ত্রাণ গাজায় প্রবেশ করানো সম্ভব হলে উপত্যকার বাসিন্দাদের দুই মাসের খাবার নিশ্চিত হবে। বৃহস্পতিবার সকালেই বিভিন্ন বেকারিতে ত্রাণের আটা পাঠানো হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত একমাত্র পথটিতে নিরাপত্তার অভাবে গাজাবাসীর কাছে ত্রাণ পৌঁছাতে দেরি হয়েছে।মঙ্গলবার (২০ মে) পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় ত্রাণবাহী ৯৩টি ট্রাক প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে ৯০টি ট্রাক জাতিসংঘের স্বেচ্ছাসেবীরা ইসরায়েলের কাছ থেকে বুঝে পেয়েছে। নেতানিয়াহু প্রশাসন বলছে, বুধবার এই ৯৩ ট্রাকের বাইরে আরও ১০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক কেরেম শালোম দিয়ে প্রবেশ করতে দিয়েছে তারা। তবে জাতিসংঘ বলছে, গাজায় যে পরিমাণ ত্রাণ প্রয়োজন, তার তুলনায় এটি খুবই নগণ্য। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর আগ্রাসন শুরুর আগে দৈনিক অন্তত ৫০০ ট্রাক করে ত্রাণ প্রবেশ করত। বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আগের চেয়ে অনেক বেশি ত্রাণ প্রয়োজন, তাই ১০০ ট্রাক ত্রাণ আসলে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য বিষয় নয়।গাজার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আপনার আর কোনো প্রশ্ন আছে কি?