জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ১১ মার্চ সেনাপ্রধানের সঙ্গে হওয়া বৈঠক নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওই বৈঠক সম্পর্কে এনসিপির আরেক নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর কিছু বক্তব্যের সঙ্গে তার মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে, ওই বৈঠকের তথ্য ফেসবুকে প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে তিনি আপত্তি তুলেছেন।
আজ রবিবার দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সারজিস আলম জানান, ১১ মার্চ সেনানিবাসে তাদের ডেকে পাঠানো হয়নি; বরং তারা নিজেরাই যোগাযোগ করে সেখানে গিয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে এনসিপির আরেকজন নেতাও যাওয়ার কথা ছিল, তবে ব্যক্তিগত কারণে তিনি যেতে পারেননি। যদিও তার নাম প্রকাশ করেননি সারজিস।
সারজিস বলেন, সেনাপ্রধানের একটি মন্তব্যের পর তারা তার সামরিক উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরে সেনানিবাসে যান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ওই বৈঠকে শুধু তিনি, হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সেনাপ্রধান উপস্থিত ছিলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহর ব্যাখ্যার কিছু অংশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে সারজিস বলেন, “একই আলোচনা মানুষ ভিন্নভাবে উপলব্ধি করতে পারে। হাসনাত তার দৃষ্টিকোণ থেকে সেনাপ্রধানের বক্তব্য ব্যাখ্যা করেছে, আমি কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে দেখছি। আমার মতে, সেদিন কোনো ‘প্রস্তাব’ দেওয়া হয়নি, বরং ‘অভিমত প্রকাশ’ করা হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ গঠনের জন্য সেনাপ্রধান কোনো চাপ প্রয়োগ করেছেন বলে আমি মনে করি না। বরং, তিনি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মতামত দিয়েছেন।”
সারজিস জানান, বৈঠকে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিলে কিংবা না নিলে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। তবে হাসনাত দাবি করেছিলেন যে, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ গঠনে চাপ দেওয়া হয়েছিল, যা সারজিসের মতে সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি।
হাসনাত আরও উল্লেখ করেছিলেন যে, আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি প্রশ্ন করেন, “যে দল এখনো ক্ষমা চায়নি, অপরাধ স্বীকার করেনি, সেই দলকে কিভাবে ক্ষমা করবেন?” তখন সেনাপ্রধান রেগে গিয়ে জবাব দেন, “তোমরা কিছুই জানো না, অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান কম। আমরা অন্তত ৪০ বছর ধরে এই দায়িত্বে আছি।”
সারজিস স্বীকার করেন যে, এই কথোপকথন হয়েছিল, তবে তিনি মনে করেন, সেনাপ্রধান রাগ করে বলেননি, বরং একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি জুনিয়রদের জ্ঞান দেওয়ার ভঙ্গিতে বলেছেন।
তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীর সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর যোগাযোগ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু এসব আলোচনার বিষয়গুলো সরাসরি ফেসবুকে প্রকাশ করা সমীচীন হয়নি। বরং আমাদের দলের ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনাটি যেভাবে প্রকাশিত হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আমাদের দল ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।”
শেষে তিনি উল্লেখ করেন, “আমার বক্তব্যের কিছু অংশ হাসনাতের বক্তব্যের সঙ্গে মিলবে না, এজন্য কেউ সমালোচনা করতেই পারেন। তবে আমরা কখনোই স্রোতে গা ভাসানো মানুষ নই। আমরা হাসিনা সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে লড়েছি, এবং আজও সহযোদ্ধাদের রক্ষায় প্রস্তুত আছি। তবে, প্রয়োজনে সহযোদ্ধার বক্তব্য সংশোধন করতেও দ্বিধা করব না।”
তিনি আরও জানান, এনসিপি আওয়ামী লীগের যেকোনো সংস্করণের রাজনৈতিক পুনরুত্থানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।
