রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মার্কিন সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ইউএসএআইডি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পাশাপাশি বৈশ্বিক পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের জন্য মার্কিন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ইউএসএআইডির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দেশটির উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে, উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হয়েছে।
বাংলাদেশে ইউএসএআইডির কর্মসূচি এশিয়ার মধ্যে অন্যতম বৃহৎ। এর আওতায় খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, গণতন্ত্র ও সুশাসন, প্রাথমিক শিক্ষা এবং পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ সহায়তা প্রদানকারী। ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে প্রায় ২১০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএআইডির পাশাপাশি পররাষ্ট্র, কৃষি, বিচার এবং জ্বালানি খাতেও বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে থাকে। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ৪৯ কোটি ডলার সহায়তা দেয়। তবে প্রেসিডেন্টের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এসব প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
হোয়াইট হাউসের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, বৈদেশিক সহায়তা আমেরিকান স্বার্থ ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এমন সহায়তা বন্ধ করা হবে। আদেশে ৯০ দিনের জন্য বৈদেশিক সহায়তা স্থগিত রেখে প্রতিটি কর্মসূচি পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পর্যালোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন। এরই মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার প্রভাবও বৈশ্বিক পর্যায়ে স্পষ্ট হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি প্রকল্পের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার মতে, “আমাদের প্রতিটি ডলার ব্যয়ের ক্ষেত্রে তিনটি প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিত করতে হবে—এটি কি যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ করবে, শক্তিশালী করবে এবং সমৃদ্ধ করবে?”
যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গভীর নজরদারি চলছে।
