বিগত ১৭ বছর পাড়ায় পাড়ায় মাদকের আখড়া গড়ে উঠেছিল: আইজিপি।

লেখক: ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ: ৫৯ minutes ago

ডেস্ক রিপোর্টঃ

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে পাড়ায় পাড়ায় মাদকের আখড়া গড়ে তোলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে পুলিশের জনবল প্রায় ২ লাখ ৮ থেকে ১৫ হাজার। চলতি বছর আরও ২০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে একসঙ্গে ২০ হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। পুলিশ বাহিনীর জনবল বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানো আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাগেরহাটে জেলা পুলিশের আয়োজনে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদবিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, মাদক ও অপরাধের বিস্তার রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না। পাড়া-মহল্লায় অপরাধবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষকে পুলিশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের বেকারত্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে আইজিপি আরও বলেন, অনেক ব্যবসায়ী তাঁদের অর্থ ব্যাংকে জমা রেখে দিয়েছেন, কিন্তু নতুন বিনিয়োগ করছেন না। বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে না, ফলে বেকারত্ব দূর করাও কঠিন হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবছর প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লাখ মানুষ বেকারের তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন। কর্মসংস্থানের অভাবে তরুণদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। অথচ তরুণদের মধ্যে রয়েছে বিপুল মেধা, শক্তি ও সামর্থ্য। তাঁদের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে।

আইজিপি যোগ করেন, তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা গেলে তাঁদের হতাশা কমানোর পাশাপাশি অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। এ জন্য নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ও বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম। এ ছাড়া জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুলিশ-জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।