ব্লাক বক্সের মাধ্যমে বিমান দুর্ঘটনার কারন জানার অপেক্ষা।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এফটি-৭ বিজিআই মডেলের প্রশিক্ষণ বিমানটি কুর্মিটোলার এ কে খন্দকার ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই দুর্ঘটনার শিকার হয়।দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে মঙ্গলবার সারাদিনই ব্ল্যাক বক্স খোঁজা হলেও সেটি পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা গেলে মূল কারণ জানা সম্ভব হবে। অনেকের ধারণা, যান্ত্রিক ত্রুটি এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী, আবার কেউ কেউ পাইলটের অদক্ষতাকেও সন্দেহ করছেন।এ ঘটনায় পাইলটসহ ৩১ জন নিহত এবং আরও ১৬৫ জন আহত হয়েছেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি যান্ত্রিক সমস্যার মুখে পড়ে। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম বিমানটিকে জনবসতি এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে নামানোর চেষ্টা করেন। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটি দিয়াবাড়ীর মাইলস্টোন স্কুলের দোতলা ভবনে বিধ্বস্ত হয়।পাইলটের দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রশ্নবাংলাদেশ এয়ারলাইনস পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ক্যাপ্টেন হেলাল বলেন, ‘‘নিহত পাইলট অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। এটি ছিল তার শেষ ‘সোলো ফ্লাইট’। এটি হয়তো ইঞ্জিন বা হাইড্রোলিক সিস্টেমের ত্রুটি হতে পারে। আমাদের দেশে বিমান বাহিনী দুর্নীতির মাধ্যমে পুরোনো যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করে। আধুনিক প্রশিক্ষণ বিমানের অভাব রয়েছে।

’’তিনি আরও বলেন, ‘‘সাধারণত সোলো ফ্লাইট সকালবেলায় হয়, যখন আকাশে ট্রাফিক কম থাকে। কেন দুপুরে এটি হয়েছিল, তা আমার বোধগম্য নয়।’’ব্ল্যাক বক্স কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?ব্ল্যাক বক্স আসলে কালো নয়, এটি কমলা রঙের হয়ে থাকে এবং উচ্চ তাপ, চাপ ও পানিতে অক্ষত থাকে এমনভাবে নির্মিত। এটি দুই অংশে বিভক্ত—ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (FDR) এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (CVR)।FDR: বিমানের উচ্চতা, গতি, চাপ, তাপমাত্রা ও বিভিন্ন সেন্সরের তথ্য সংরক্ষণ করে।CVR: ককপিটে পাইলটদের কথোপকথন, রেডিও যোগাযোগ এবং অন্যান্য শব্দ রেকর্ড করে।ব্ল্যাক বক্স সর্বশেষ সময়ের তথ্য ধরে রাখে এবং পুরনো তথ্য মুছে গিয়ে নতুন তথ্য যুক্ত হয়। তাই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিমানটির পরিচিতিচীনের চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশনের তৈরি এফটি-৭ বিজিআই একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান, যা মূলত এফ-৭ যুদ্ধবিমানের জন্য পাইলট প্রস্তুতির কাজে ব্যবহৃত হয়। এটি এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট এবং দুই আসনের। বাংলাদেশ ২০১৩ সালে চীন থেকে এই বিমান সংগ্রহ করে। তবে উৎপাদন ২০১৩ সালেই বন্ধ হয়ে যায়।ইরান, ইরাক, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, মিসরসহ কিছু দেশে এখনো এই বিমান রয়েছে।বিমান বাহিনীপ্রধানের প্রতিক্রিয়াবিমান বাহিনীপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন দেশবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছেন গুজবে কান না দিতে। তিনি বলেন, ‘‘তথ্য গোপনের কিছু নেই। দুর্ঘটনার তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত কারণ জানাবে। যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, তাহলে তার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’তিনি আরও বলেন, ‘‘পাইলট সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন বিমানটি জনবিরল স্থানে নিয়ে যেতে এবং নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। বিমানটি পুরোনো নয়, তবে প্রযুক্তি কিছুটা পুরোনো ছিল।’’

পূর্ববর্তী দুর্ঘটনাগুলো২০১৫ সালের ১ এপ্রিল রাজশাহীতে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট তামান্না রহমান নিহত হন।২০১৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর কক্সবাজারে ইয়াক-১৩০ মডেলের দুটি বিমান দুর্ঘটনায় পড়ে, তবে পাইলটরা নিরাপদে বের হয়ে আসেন।২০১৮ সালের নভেম্বরে টাঙ্গাইলে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট উইং কমান্ডার আরিফ আহমেদ নিহত হন।—প্রয়োজনে এই লেখাটিকে আরও সংক্ষিপ্ত বা দীর্ঘ করা যেতে পারে। জানাতে পারেন কীভাবে সাহায্য করতে পারি।