নিজস্ব প্রতিনিধি:
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, সীমিত আকারে হলেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ভোটিং ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্য তাদের রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে বিশ্বের অনেক দেশে ‘আউট অফ কান্ট্রি ভোটিং’ ব্যবস্থা প্রচলিত আছে। তবে অনেক দেশ বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে এটি শুরু করেও সফল হতে পারেনি। এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতও এখনো এই ব্যবস্থা চালু করতে পারেনি। তিনি বলেন, “আমরা এটি চালু করতে চাই। অন্তত সীমিত পরিসরে এর শুরুটা হোক।”মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিয়ে আয়োজিত নির্বাচন কমিশনের এক সেমিনারের শুরুতে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা তাদের অঙ্গীকার উল্লেখ করে সিইসি বলেন, “এটা আমাদের কাছে সবার দাবিও। আমরা এটা নিয়ে কাজ করেছি। দেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতা ও শিক্ষা – সবকিছু পর্যালোচনা করে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।” তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক নেতারা সমর্থন না দিলে কোনো কিছুই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। মানুষের আস্থা বজায় থাকে এবং কম খরচে এটি বাস্তবায়ন করা যায় – এমন পদ্ধতি বেছে নিতে হবে। তারা পরবর্তী নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটদান ব্যবস্থা চালু করতে চান।নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে প্রবাসী ভোটাররা কখনোই ভোট দিতে পারেননি। প্রবাসী ভোটাররা দেশের মোট ভোটারের ১০ শতাংশ। তাদের লক্ষ্য হলো প্রবাসী ভোটারদের ভোটিং ব্যবস্থার আওতায় আনা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ১০ শতাংশ ভোটারের মতামতবিহীন ভোট, যা সামগ্রিক মতামতের একটি খণ্ডিত অংশ।১৭৮টি দেশের মধ্যে ১১৫টির প্রবাসীরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন উল্লেখ করে এই নির্বাচন কমিশনার জানান, ২০ শতাংশ দেশে সেই দেশের প্রবাসীরা দেশীয় ভোটারদের তুলনায় বেশি ভোট দেন। এসব দেশে প্রবাসী ভোটাররা কেবল জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন। এ সময় তিনি প্রবাসী ভোটিং সিস্টেম তৈরির বিভিন্ন প্রস্তুতি সম্পর্কে বর্ণনা করেন।ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলমের সঞ্চালনায় সেমিনারে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. জাহাংগীর আলম বলেন, প্রবাসীরা ভোট দিতে না পারলে ভোটের সামগ্রিক হারে প্রভাব পড়ে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। তারা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট চান এবং এই উৎসবে প্রবাসীদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে চান।
