কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে খতনার অনুষ্ঠানে খাবার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৪
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে একটি খতনার অনুষ্ঠানে খাবার পরিবেশন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে, যেখানে রাশিদুল ইসলাম তাঁর ছেলের খতনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন।
সংঘর্ষের কারণ
স্থানীয় সূত্র জানায়, অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন। দুপুর থেকে খাবার পরিবেশন চলছিল। একপর্যায়ে আকবর নামে এক ব্যক্তির স্ত্রী, তাঁর দুই ছেলে মাহফুজুর রহমান ও চান্নু হোসেনসহ আটজন একসঙ্গে বসে খাচ্ছিলেন। খাবার পরিবেশনের দায়িত্বে ছিলেন রাফির মামা শহিদুল ইসলাম।
খাবার গ্রহণের সময় চান্নু হোসেন মাংসের বদলে বেশি ঝোল পাওয়ায় অভিযোগ করেন এবং ভালো মাংস দেওয়ার অনুরোধ করেন। শহিদুল কয়েকবার গামলা পরিবর্তন করলেও বারবার একই সমস্যা দেখা দিলে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং একপর্যায়ে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও মারামারি শুরু হয়।
আহতদের অবস্থা
এই সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন:
মাহফুজুর রহমান (২০) – তাঁর শরীরে একাধিক আঘাত রয়েছে এবং মাথায় কয়েকটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তিনি কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
চান্নু হোসেন (৩৫)
শহিদুল ইসলাম (৪৫)
জামিরুল (১৯)
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য
আহত মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘‘আমরা শুধু ভালো মাংস চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের বারবার ঝোল দেওয়া হচ্ছিল। এর প্রতিবাদ করলে প্রতিপক্ষ আমার মাথায় চেয়ার দিয়ে আঘাত করে।’’
অপর পক্ষের দাবি ভিন্ন। শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমি বারবার গামলা বদল করে দিয়েছি, কিন্তু ওরা অভিযোগ করতেই থাকল। একপর্যায়ে তারা আমাকে মারধর করেছে, জামা ছিঁড়ে ফেলেছে এবং আমার চোখ ফুলিয়ে দিয়েছে।’’
প্রশাসনের অবস্থান
কুমারখালী থানার উপপরিদর্শক সোহাগ শিকদার জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাশিদুল ইসলাম, যাঁর বাড়িতে অনুষ্ঠানটি হয়েছিল, তিনি বলেন, ‘‘একটি আনন্দের আয়োজন এমন বিশৃঙ্খলায় রূপ নেবে ভাবিনি।’’
