ইউক্রেনের পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার অভিযোগ, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলছে

লেখক: আলোক
প্রকাশ: ১ বছর আগে

ইউক্রেনের পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার অভিযোগ, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলছে

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যে কোনো সময় যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে। অন্যদিকে, রাশিয়ার পক্ষ থেকেও আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এই আলোচনার মাঝেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া তাদের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে।

চেরনোবিলে ড্রোন হামলার অভিযোগ

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ক্ষতিগ্রস্ত রিয়্যাক্টরের রেডিয়েশন শেল্টারের ওপর একটি ড্রোন এসে পড়ে। এতে সেখানে আগুন ধরে যায়, তবে শেষ পর্যন্ত তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পারমাণবিক বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। ইউক্রেনের দাবি, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনটি রাশিয়ার। যদিও মস্কোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইতিহাসের ছায়া: চেরনোবিলের ভয়াবহতা

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে চেরনোবিল পারমাণবিক কেন্দ্রের ৪ নম্বর রিয়্যাক্টরের সুরক্ষা কাঠামোর ওপর একটি রুশ ড্রোন আঘাত হানে, যা আগুন লাগার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, তবে এতে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

১৯৮৬ সালে চেরনোবিলের ৪ নম্বর ইউনিটে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ইউরোপের বেশ কিছু অঞ্চলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে এটি কংক্রিট ও ইস্পাতের সুরক্ষা-বর্ম দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক হামলার পর, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে বিস্ফোরণের মুহূর্তটি ধরা পড়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা শঙ্কা

আন্তর্জাতিক আণবিক জ্বালানি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, পারমাণবিক স্থাপনার অভ্যন্তরের স্তরে কোনো বড় ধরনের ফাটল দেখা যায়নি। সংস্থার মতে, চেরনোবিলের ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সুরক্ষা স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারত, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ঘটনার পর ইউক্রেনের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আইএইএ’র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেন, ‘আমরা গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি।’ তিনি আরও বলেন, চেরনোবিল এবং জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একটি বিশেষজ্ঞ দল চেরনোবিলে অবস্থান করছে।

এই হামলার প্রেক্ষাপটে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।