অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হত্যার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ জানাল প্রেস উইং।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সাম্প্রতিক অপরাধ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হত্যার সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে হলেও এর মূল কারণ নতুন করে অপরাধ বাড়া নয়। বরং দীর্ঘদিন রেকর্ডবিহীন ও দমনকৃত বহু হত্যা মামলা এখন পুনরায় নথিভুক্ত হওয়ায় এ চিত্র উঠে এসেছে।অন্যদিকে দাঙ্গা, চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধ স্পষ্টভাবে কমেছে, যা আইনশৃঙ্খলার উন্নতির ইঙ্গিত বহন করছে।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ১৩ মাসে অন্তত ১ হাজার ১৩০টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এর বড় অংশ ঘটেছিল শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে। তবে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের চাপ এবং পুলিশের অনীহার কারণে সে সময় এসব মামলা দায়ের সম্ভব হয়নি। আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেসব মামলা উন্মুক্ত হয়, ফলে হত্যার সংখ্যা হঠাৎ বেড়েছে বলে মনে হলেও তা আসলে দীর্ঘদিনের চাপা অপরাধের হিসাব।

এদিকে অন্যান্য অপরাধে লক্ষণীয় হ্রাস দেখা গেছে—ডাকাতি: ২০২৪ সালে ১,৪০৫ থেকে ২০২৫ সালে নেমে এসেছে ১,৩১৪-এ।আইনশৃঙ্খলা ব্যাহতকরণ (দ্রুতবিচার আইন): ২০২৪ সালে ১,২২৬ থেকে ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৬৫১-এ।দাঙ্গা: ২০২৪ সালের ১২৫ থেকে ২০২৫ সালে মাত্র ৫৯-এ নেমেছে।চুরি: ২০২৪ সালে ৮,৬৫২ থেকে ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দাঁড়িয়েছে ৬,৩৫৪-এ।প্রেস উইংয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অপরাধের পরিসংখ্যানের এই পরিবর্তন একদিকে পুরোনো দমনকৃত মামলার উন্মোচনকে নির্দেশ করছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বাস্তব উন্নতির প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। আগে রাজনৈতিক ভয়ের কারণে অনেক ভুক্তভোগী মামলা করতে পারতেন না, পুলিশের পক্ষ থেকেও নিরুৎসাহিত করা হতো।

বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে—নাগরিকরা এখন ভয়ভীতিমুক্তভাবে মামলা করতে পারছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সহযোগিতা করছে।ফলে পুরোনো রেকর্ড যুক্ত হওয়ায় হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের সংখ্যা বেশি মনে হলেও, চুরি, ডাকাতি ও দাঙ্গার মতো অপরাধ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ শক্তিশালী হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই পরিবর্তন দেশে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রগতি ঘটাচ্ছে।