বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে ১২ দফা প্রস্তাবনা: “কাউন্সিল ফর দ্য রাইটস অব একাডেমিয়া”
“কাউন্সিল ফর দ্য রাইটস অব একাডেমিয়া” সংগঠনটি সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ১২ দফা সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। সংগঠনের মুখপাত্র প্লাবন তারিক উল্লেখ করেন যে, স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তবে স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সময়োপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি সম্ভব হয়নি।
সংগঠনটির প্রস্তাবিত ১২ দফা নিম্নরূপ:
১. স্বাধীন শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন
শিক্ষাবিদ, গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। কমিশনটি গবেষণা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে।
২. শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক আধুনিকায়ন
শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা উচিত। এর সঙ্গে প্রযুক্তি, জাতীয় ইতিহাস, গবেষণা ও কর্মমুখী শিক্ষার সমন্বয় করতে হবে।
৩. মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন
শুধু পরীক্ষাভিত্তিক নয়, ধারাবাহিক মূল্যায়ন, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রকল্প এবং দলগত কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করতে হবে।
৪. শিক্ষা বাজেটের অগ্রাধিকার
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি গবেষণা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ন্যূনতম বাজেট নিশ্চিত করতে হবে।
৫. গবেষণাধর্মী উচ্চশিক্ষা
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
৬. শিক্ষা নিয়োগ কমিশন
শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন শিক্ষা নিয়োগ কমিশন গঠন করতে হবে।
৭. মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার
আলিয়া ও কওমি মাদরাসার কারিকুলামে ধর্ম ও আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষার সমন্বয় করে একটি বোর্ড গঠন করতে হবে।
৮. কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন
কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সহজলভ্য করে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে।
৯. শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর
শিক্ষা কার্যক্রমে ডিজিটাল সরঞ্জাম ও পদ্ধতি ব্যবহার করে শেখার অভিজ্ঞতা উন্নত করা প্রয়োজন।
১০. মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সেলিং
প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মনোবিজ্ঞানী ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ব্যবস্থা করা উচিত।
১১. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি
প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
১২. বুলিং ও র্যাগিং প্রতিরোধে ব্যবস্থা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র্যাগিং বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সংগঠনের এই প্রস্তাবনার লক্ষ্য একটি টেকসই, আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা।
