নরসিংদী প্রতিনিধি: ২৭ সেপ্টেম্বর
শহরের নবধারা প্রি-স্কুল মিলনায়তনে বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এ সভায় সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সভাপতি কবি নাজমুল আলম সোহাগ।শুরুতেই প্রয়াত লেখক-বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর, গবেষক যতীন সরকার, প্রখ্যাত লালনশিল্পী ফরিদা পারভীন এবং লেখক রিপন ইউসুফের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সভায় নরসিংদী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তাফা মিয়া, কবি ও সম্পাদক সুমন ইউসুফ, কবি ও ঔপন্যাসিক শাদমান শাহিদ, কবি হাসনাইন হীরা, কবি আল মনির, কবি ও প্রকাশক মোশাররফ মাতুব্বর, কবি এমরানুর রেজা, শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী মঈনুল ইসলাম মীরুসহ পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও জেলার বিভিন্ন প্রান্তের কবি-সাহিত্যিক এবং সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেন।আলোচনায় বক্তারা রিপন ইউসুফের সাহিত্যচিন্তা, দর্শন, চলচ্চিত্র ভাবনা এবং সমাজ-রাষ্ট্রবিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর আলোকপাত করেন।

তারা ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণের পাশাপাশি লেখকের সততা, নান্দনিকতা ও আদর্শিক দৃঢ়তার কথা তুলে ধরেন।কবি হাসনাইন হীরা বলেন, “রিপন আমার বন্ধু, সহযাত্রী। নানা বিষয়ে আমরা তর্ক করেছি। বাংলা অঞ্চল ও ম্যাজিক রিয়ালিজম নিয়ে তার গভীর আগ্রহ ছিল।” অধ্যাপক জহির মৃধা বলেন, “তিনি সর্বদা চিন্তাশীল মানুষ ছিলেন। দীর্ঘদিন সিআইডিপি রোগে ভুগেছেন, তার মৃত্যু আমাদের ভাবায়।
” কবি আল মনিরের মতে, “এমন বহুমুখী প্রতিভা সমাজে বিরল।”কবি এমরানুর রেজা বলেন, “রিপন ইউসুফ কখনো আদর্শ থেকে সরে আসেননি, কলমকে বিক্রি করেননি। তিনি আত্মমগ্ন মানুষ ছিলেন, তাই তিনি কখনো হারাবেন না।” সংস্কৃতিকর্মী মঈনুল ইসলাম মীরু মন্তব্য করেন, “রচনার সংখ্যা দিয়ে কবিকে বিচার করা যায় না। রিপন ইউসুফ ছিলেন স্বল্পভাষী, কিন্তু চিন্তাশীল লেখক।”কবি ও সম্পাদক সুমন ইউসুফ জানান, “এক দশক তার সাথে পথচলা। তিনি সংগঠনে বিশ্বাসী ছিলেন না, তবে সমাজ ও রাষ্ট্রে সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে বুঝতেন।
”প্রাতিষ্ঠানিক কারণে অনুপস্থিত কবি রবিউল আলম নবী ভয়েসবার্তায় রিপন ইউসুফের অপ্রকাশিত লেখাগুলো বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।অধ্যাপক গোলাম মোস্তাফা মিয়া বলেন, “তার মৃত্যু সত্যিকার অর্থে অকালমৃত্যু। চিন্তায়-দর্শনে যখন পরিপক্বতা এসেছিল, তখনই আমরা তাকে হারালাম। রিপন বেঁচে থাকবেন তার সৃষ্টি ও কর্মের ভেতর।”সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষক শাহজাহান, সংস্কৃতিকর্মী মাইনুল রহমান খান, কবি মমিন আফ্রাদ, কবি শাহ আলম, কবি নাজমুল শাহরিয়ার, কবি ইফতেখার, কবি আল সউদ, প্রকাশক মোশাররফ মাতুব্বর এবং রিপন ইউসুফের বড় ভাই রাসেল ওয়ালিদ। পাশাপাশি পাঠ করা হয় প্রয়াত লেখকের কবিতা, গল্প ও অনুবাদের অংশবিশেষ।
উল্লেখ্য, রিপন ইউসুফ নরসিংদীর টাউয়াদীতে বসবাস করতেন। কবিতা, গল্প, অনুবাদ, চলচ্চিত্র ভাবনা ও সমাজ-রাষ্ট্রবিষয়ক গদ্যসহ তার বহু লেখা জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিন তিনি সিআইডিপি রোগে ভুগছিলেন। গত ১৯ জুলাই ২০২৫ (শনিবার) বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
