র‍্যাব পরিচয়ে মেসে ঢুকে জবি ছাত্রীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা।

লেখক: আল ফাতিহা নুহা
প্রকাশ: ৩৩ minutes ago

জবি প্রতিনিধি:

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রীদের একটি মেসে র‍্যাব পরিচয়ে হানা দিয়ে জবির নাট্যকলা বিভাগের ১১ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মোছাঃ বর্ষাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে রাজধানীর কলতাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সমাজসেবা সম্পাদক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সূত্রে জানা যায়, ভোরে ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি র‍্যাব পরিচয়ে কলতাবাজারে জবির নারী শিক্ষার্থীদের একটি মেসের দরজা খুলতে বলেন। শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বললে তারা অসংলগ্ন উত্তর দেন এবং একপর্যায়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছেন মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানকে ফোন করে সহযোগিতা চান।

খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।মোস্তাফিজুর রহমানের দাবি, প্রথমে মেসে যাওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের র‍্যাব সদস্য হিসেবে পরিচয় দিলেও পরিচয়ের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। তাদের থানায় নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে সেখানে র‍্যাবের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত হন।

পরে তারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ ব্যাচের এক সাবেক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের কথা জানান।মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণের উদ্দেশ্যেই র‍্যাব পরিচয়ে লোক পাঠানো হয়েছিল। তার দাবি, শিক্ষার্থীর ছোট বোনের সাবেক স্বামী পারিবারিক বিরোধের জেরে র‍্যাবকে ব্যবহার করে তাকে গ্রেপ্তার করানোর চেষ্টা করেছেন।তিনি বলেন, “ঘটনার শুরু থেকেই সহকারী প্রক্টর সালেহ স্যার আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানালে তিনি তারেক স্যার ও নাজমুস সাকিব স্যারকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন।

পরে তারেক স্যার, সালেহ স্যার, ব্যারিস্টার এহসান স্যার ও নাজমুস সাকিব স্যারদের সহযোগিতায় আমরা শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করি। বর্তমানে সে প্রক্টর অফিসে আছে।”জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নন। ঘটনার সময় মেসটিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও ছয়জন নিয়মিত ছাত্রী ছিলেন বলে জানান পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক। পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক বলেন, “সকাল ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে রিয়াজুল নামে এক শিক্ষার্থী আমাকে ফোন করে জানায়, একটি মেয়েদের মেসে র‍্যাব পরিচয়ে হানা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্পর্শকাতর মনে হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে প্রক্টরিয়াল বডিকে জানাই। পাশাপাশি দায়িত্বশীল ডিটেক্টিভদেরও ফোন করি।”তিনি বলেন, “পরে সেখানে গিয়ে তাদের পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। তারা প্রথমে ভুলবশত সেখানে আসার কথা বলে।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, আসামি ধরতে এসেছে। সর্বশেষ তারা চুরির মামলার আসামি ধরতে আসার কথা জানায়।”তারেক বিন আতিকের ভাষ্য, একপর্যায়ে ওই সাবেক শিক্ষার্থীকে মেস থেকে বের করে একটি গাড়িতে তোলা হয়। খবর পেয়ে মোস্তাফিজুর রহমানসহ শিক্ষার্থীরা তাদের জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে না আসা পর্যন্ত যেন শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়া না হয়।তিনি বলেন, “আমরা সেখানে গিয়ে দেখি তারা গাড়ি নিয়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি সামনে দাঁড়িয়ে বলি, কোনো জগন্নাথের শিক্ষার্থীকে এখান থেকে নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থী যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, তাহলে প্রক্টরিয়াল টিম, উপাচার্য মহোদয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

”তারেক বিন আতিক আরও বলেন, “তারা আমাকে বাড়াবাড়ি করছি বলে। আমি বলেছি, বাড়াবাড়ি যেটাই হোক, আমাদের শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা ছাড় দেব না।”পরিবহন প্রশাসকের দাবি, পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় ওই শিক্ষার্থীকে তাদের জিম্মায় রেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চলে যান। পরে তাদের পরিচয় জানতে চাওয়া হলেও তারা কোন র‍্যাব ইউনিট থেকে এসেছেন, মোবাইল নম্বরসহ অন্যান্য পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে দাবি করেন তিনি।এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বর্ষার সাথে যোগাযোগ করা হলে এই পরিস্থিতিতে তিনি তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তিনি বলেন পরে সবাইকে একসাথে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. তারেক বিন আতিক বলেন, “আমরা আমাদের স্টুডেন্টদের নিরাপত্তা চাই। কোনো ধরনের গুম, খুনের রাজনীতি এখন বাংলাদেশে হবে না। কাউকে ভয় দেখিয়ে কোনো শর্ত হাসিল করার জন্য আমাদের স্টুডেন্টদের ক্ষতি করা হলে এ ধরনের কোনো শক্তি বরদাস্ত করা হবে না।”এ বিষয়ে জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আজম খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ঘটনাটি সত্য। ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিবে। আমরা এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আছি। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

“এদিকে সূত্রাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে প্রক্টরিয়াল বডি ও দায়িত্বরত শিক্ষকরা বিস্তারিত জানেন এবং তারাই বিষয়টি হ্যান্ডেল করেছেন। আমাদের লোকজন সেখানে গিয়েছিলো তবে আমি নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। অভিযুক্তরা সূত্রাপুর থানায় নেই, তারা তখনই ওখান থেকে চলে গিয়েছে। তারা অন্য এলাকার বা ক্যান্টনমেন্ট থানার হতে পারে বলে জানান তিনি।