আলমডাঙ্গায় বিদেশ পাঠানোর নামে জামায়াত কর্মীর প্রতারণা ।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

আলমডাঙ্গা প্রতিনিধি:

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থানায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিদেশে পাঠিয়ে কর্মসংস্থান না দেওয়া এবং লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ভাই মোঃ ইউসুফ মিয়া বাদী হয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে আলমডাঙ্গা থানায় এই অভিযোগটি জমা দেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হারদী গ্রামের মোঃ সানেম আলীর ছেলে মো: ইউসুফ মিয়া(২৯) তার বড় ভাই মো: গফুর মল্লিক(৩৮) কে সৌদি আরব পাঠানোর জন্য একই উপজেলার ভোগাইল বগাদী গ্রামের মো: বকুল হোসেনের (৬৫) সাথে যোগাযোগ করেন। বকুল হোসেন দীর্ঘ দিন ধরে বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ (আদম ব্যবসা) করে আসছিলেন।

গফুর মল্লিককে সৌদি আরব পাঠাতে বকুল হোসেন ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং মাসিক ৬০ হাজার টাকা বেতনের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই সাথে তিনি আশ্বাস দেন যে, কোনো সমস্যা হলে বা কাজ দিতে না পারলে সমস্ত টাকা ফেরত দিবেন। তার কথায় বিশ্বাস করে বিভিন্ন সময়ে নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।

২০২৪ সালে গফুর মল্লিক সৌদি আরব পৌঁছানোর পর দেখা যায়, চুক্তি অনুযায়ী সেখানে তাকে কোনো কাজ দেওয়া হয়নি এবং প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র বা আকামা তৈরি করে দেওয়া হয়নি। এক পর্যায়ে বৈধ কাগজ ছাড়া প্রায় এক বছর পালিয়ে থাকার পর পুলিশের হাতে ধরা পড়েন এবং দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়।ভুক্তভোগী দেশে ফেরার পর বকুল হোসেনের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তিনি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার স্বাক্ষরকৃত একটি চেক প্রদান করেন এবং এক মাস সময় চেয়ে নেন।

ভুক্তভোগী সময় দিতে রাজি না হলে প্রতারক বকুল বলেন, আমি এলাকার জামায়েতের কর্মী এবং ঢাকার এক মার্কেট কমিটির আমির। আমাকে আর কয়েকটা দিন সময় দেন আমি কলা বিক্রি করে আপনার টাকা পরিশোধ করে দিবো। তার কথায় বিশ্বাস করে আবার সময় দিলেও তিনি টাকা পরিশোধ করেননি। এমনকি ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ভুক্তভোগী আব্দুল গফুরের ভাই ইউসুফ মিয়া বলেন, “আমার ভাইকে বিদেশে পাঠিয়ে চরম ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে। আমরা আমাদের পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তিনি আজ না কাল করে টালবাহানা করছেন। নিরুপায় হয়ে আমরা ফেব্রুআরি মাসে আলমডাঙ্গা থানায় অভিযোগ দিয়েছি। থানাতে অভিযোগর কয়েক মাস পার হলেও টাকা উদ্ধারের দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি দেখছি না। কয়েক মাসেও যদি একটা অভিযোগের সুরাহা না হয় তবে মানুষ কার কাছে যাবে?