মনপুরা-চরফ্যাশন নৌরুট: লঞ্চে জীবনের ঝুঁকি, কাদাপানিতে সীমাহীন দুর্ভোগ; কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ।

লেখক: মোঃ হোসাইন
প্রকাশ: ১ বছর আগে

মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি:

ভোলার মনপুরা উপজেলার জনতা ঘাট থেকে চরফ্যাশনের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন চলাচলকারী একমাত্র লঞ্চটি যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। মেঘনার উত্তাল ঢেউ উপেক্ষা করে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছোট এই লঞ্চটি নিয়মিত চলাচল করলেও এতে নেই কোনো জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম বা জরুরি অবস্থার জন্য ন্যূনতম কোনো ব্যবস্থা। ফলে প্রতিটি যাত্রাই হয়ে উঠছে উদ্বেগ ও চরম অনিশ্চয়তায় ভরা, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা।লঞ্চের এই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সাথে যুক্ত হয়েছে ঘাটসংক্রান্ত অব্যবস্থাপনা, যা যাত্রীদের দুর্ভোগকে পৌঁছে দিয়েছে চরমে। জনতা ঘাট থেকে লঞ্চ ছাড়ার জন্য ব্যবহৃত খালটিতে বছরের অধিকাংশ সময় জোয়ারের পানি থাকে না। ফলে লঞ্চটি নদীর অনেকটা গভীরে নোঙর করতে বাধ্য হয়।

এতে শিশু, নারী, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ রোগীদের শুকনো খাল, কাদামাটি কিংবা হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে লঞ্চে ওঠা-নামা করতে হয়। এই ভোগান্তি শুধু কষ্টকরই নয়, অত্যন্ত বিপজ্জনকও।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খালটি খননের জন্য দাবি জানানো হলেও কোনো কর্তৃপক্ষই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। অথচ, সামান্য উদ্যোগ নিলেই খালটি নিয়মিত খননের মাধ্যমে নৌযান চলাচলের উপযোগী রাখা সম্ভব। পাশাপাশি, জনতা ঘাট এলাকায় একটি স্থায়ী পল্টুন নির্মাণের দাবিও জোরালো হচ্ছে, যাতে যাত্রীরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে লঞ্চে আরোহণ করতে পারেন।ভুক্তভোগী এক যাত্রী ক্ষোভের সাথে বলেন, “জোয়ার না থাকলে লঞ্চ থাকে নদীর মাঝখানে। বৃদ্ধ আর ছোট বাচ্চা নিয়ে কাদাপানি ভেঙে লঞ্চে ওঠা যে কী কষ্টের, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না! কিছুদিন আগেই তো একজন বৃদ্ধা পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত হয়েছিলেন। আমরা চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করতে পারিনি।

“এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে স্থানীয় জনগণ মনপুরা উপজেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনটি প্রধান দাবি জানিয়েছেন:১. মনপুরা-চরফ্যাশন রুটে অবিলম্বে নিরাপদ, আধুনিক ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত একাধিক লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা করা।২. জনতা ঘাটের খালটি নিয়মিত খনন করে সারা বছর নৌযান চলাচলের উপযোগী রাখা।৩. যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে ঘাটে একটি স্থায়ী পল্টুন নির্মাণ করা।নৌপরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে কেবল যাত্রীদের দুর্ভোগই লাঘব হবে না, বরং এই গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই এখন এই অঞ্চলের হাজারো মানুষের একমাত্র ভরসা।