চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গার নীলবিদ্রোহীরা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ইংরেজ নীলকরদের সাথে স্বার্থের বোঝাপড়ায় দুর্গাপুর কুঠির কুখ্যাত দেওয়ান অত্যাচারী রামসুন্দর গোস্বামী ইংরেজদের পক্ষ নিয়ে ছিলেন। কিন্তু তার পুত্র মহেশচন্দ্র নীলবিদ্রোহীদের পক্ষ গ্রহণ করেছিলেন। পরে বাদেমাজুর বিদ্রোহী নেতা পিয়ার বিশ্বাস, গোস্বামী দুর্গাপুরের জালালউদ্দীন শেখ, ঘোষবিলার ফয়েজউদ্দীন মণ্ডল, গোবিন্দপুরের জমিরউদ্দীন মণ্ডল প্রমুখ মুসলিম বীরের সহযোগিতায় মহেশচন্দ্র কোর্ট-কাচারিতে নীলকরদের সাথে আইনের লড়াই করেছিলেন। তাছাড়া আলমডাঙ্গা এলাকার নীল বিদ্রোহীর সাথে প্রাণপণে যুদ্ধ করেছিলেন তিতুমীরের অনুসারী খ্যাত মেহেরপুরের হামকল বাহিনীর বীরযোদ্ধা মহব্বত আলী, জসিমউদ্দিন খান ও আজমত আলী। হামকল যোদ্ধাদের বীরত্ব বিশেষত শহীদ তিতু মীরের বৈপ্লবিক চেতনা আলমডাঙ্গায় নীলকরদের পরাজিত ও নীলচাষ বন্ধ করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে।
আলমডাঙ্গাতে নীলচাষ বন্ধের পূর্বে ইংরেজ নীলকররা নীল চাষ করতে অস্বীকারকারী চাষিদের গ্রেফতার করে আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনের নিচে যে ছয়টি কক্ষ রয়েছে সেখানে আটকিয়ে অত্যাচার করতো এবং উপরের তলাতে ইংরেজদের প্রতিনিধি বাস করত। বিভিন্ন সময়ের অত্যাচার ও নির্যাতনের পুঞ্জিভূত বেদনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৮৫৯ সনের মাঝামাঝি সময়ে চুয়াডাঙ্গা এলাকার নীলকুঠিগুলোতে। বিদ্রোহী কৃষক বাহিনী এক যোগে সিন্দুরিয়া, ফুলবাড়ি, খাড়াগোদা, ঘোলদাঁড়ি ও জোড়াদহ নীলকুঠি আক্রমণ করে। নীলকরদের পরাজিত করে আলমডাঙ্গাকে নীলকর মুক্ত করে স্বাধীনভাবে ফসল উৎপাদন করতে শুরু করে।
