বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের অবমাননা ও ক্ষমতায় থাকাকালীন দমন-পীড়নের স্বর অব্যাহত রাখার কারণে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে হামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রেস উইং তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে জানিয়েছে, ভারতে পলাতক অবস্থায় থেকে শেখ হাসিনা সাম্প্রতিক সময়ে যেসব উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, তা জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে।
প্রেস উইং আরও জানায়, বিগত ছয় মাসে ঐ বাড়িতে কোনো ধরনের হামলা বা ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেনি। তবে বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে সেখানে সহিংসতা দেখা দেয়, যার পেছনে দুটি মূল কারণ রয়েছে।
প্রথমত, শেখ হাসিনা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদদের সম্পর্কে অবমাননাকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছেন, যা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।
দ্বিতীয়ত, ক্ষমতায় থাকাকালীন দমনমূলক নীতির মাধ্যমে দেশ শাসন করা শেখ হাসিনা, গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশত্যাগ করেও একই হুমকি-ধমকির ভাষায় কথা বলে যাচ্ছেন। তিনি অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী জনগণের বিরুদ্ধে মন্তব্য অব্যাহত রেখেছেন এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির হুমকি দিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, জুলাই গণহত্যার ঘটনার ক্ষত এখনো জনগণের মনে গভীরভাবে রয়ে গেছে, আর শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই ক্ষতকে আরও গভীর করছে। তার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ৩২ নম্বর বাড়িতে হামলা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য বন্ধ করা গেলে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়ানো সম্ভব।
সরকার আশা করে যে ভারত তার ভূখণ্ডকে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করতে দেবে না এবং শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করবে।
এছাড়া, জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের কাজ পুরোদমে চলছে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সরকার পর্যালোচনা করছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ‘বুলডোজার মিছিল’ নামে ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছাত্র-জনতা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জড়ো হয়। রাত ১০টার দিকে সেখানে অগ্নিসংযোগ করা হয়, এরপর রাত ১১টার দিকে ক্রেন নিয়ে বাড়িটির সামনে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নেয়। রাত সোয়া ১১টার দিকে এক্সকাভেটর এনে ভবনটি ভাঙার চেষ্টা করা হয়।
এর আগে রাত ৮টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা মিছিল সহকারে ৩২ নম্বরের বাড়িতে প্রবেশ করে। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার অনলাইন বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনার জেরে এই বিক্ষোভ সংঘটিত হয়।
