বাঁহাতি ‘চায়নাম্যান’ স্পিনার থেকে চট্টগ্রামের ভয়ংকর সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ ঘন্টা আগে

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

এক সময় চট্টগ্রামের ক্রিকেট অঙ্গনে সম্ভাবনাময় বাঁহাতি ‘চায়নাম্যান’ স্পিনার হিসেবে পরিচিত ছিলেন মোবারক হোসেন ইমন। হাতে ক্রিকেট বল নিয়ে তার স্বপ্ন ছিল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলা। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই পরিচয় বদলে যায়। ক্রিকেটের মাঠ ছেড়ে তিনি জড়িয়ে পড়েন অপরাধ জগতে এবং পরিচিতি পান ‘ডেভিড ইমন’ নামে। খুন, চাঁদাবাজি, অস্ত্র প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আলোচিত এই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে অবশেষে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় যৌথ অভিযানে ডেভিড ইমনকে তার তিন সহযোগীসহ আটক করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কোতোয়ালি মডেল থানা ও যশোর জেলা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে দীর্ঘদিনের নজরদারির পর তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন ইমন। পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেটের প্রতি তার ছিল গভীর আগ্রহ। এলাকার মাঠ থেকে শুরু করে একসময় তিনি চট্টগ্রামের ক্রিকেট অঙ্গনে পরিচিতি পান। ২০১৯ সালের দিকে তিনি ব্রাদার্স ক্রিকেট একাডেমিতে যোগ দেন এবং নিয়মিত বাকলিয়া স্টেডিয়াম ও কাজীর দেউড়ি এলাকায় অনুশীলন করতেন।বাঁহাতি ‘চায়নাম্যান’ স্পিনার হিসেবে দ্রুতই নজর কাড়েন ইমন। ভারতীয় স্পিনার কুলদীপ যাদবের বোলিং অনুসরণ করতেন তিনি। ক্রিকেট নিয়েই ছিল তার ভবিষ্যতের পরিকল্পনা।

ব্রাদার্স ক্রিকেট একাডেমির কোচ আমিনুল হক জানান, ইমন একসময় শান্ত স্বভাবের ও নিয়মিত অনুশীলনকারী খেলোয়াড় ছিলেন। করোনার পর তাকে আর মাঠে দেখা যায়নি। পরে গণমাধ্যমে ‘ডেভিড ইমন’ নামে আলোচনায় আসার পর তিনি জানতে পারেন, সেই ক্রিকেটারই অপরাধ জগতের আলোচিত ব্যক্তি।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত হন মোবারক হোসেন ইমন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে তার নাম নতুন করে আলোচনায় আসে। এ সময় বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের গ্রুপের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানায়।

পুলিশের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডের কারণে ডেভিড ইমন ওই গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিতি পান। নগরের বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, চান্দগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং জেলার কয়েকটি উপজেলায় এ চক্রের তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।পুলিশ আরও জানায়, অস্ত্র ব্যবহারে দক্ষ হিসেবে পরিচিত ডেভিড ইমনের কাছে একাধিক অস্ত্র থাকার তথ্য রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মামলাও রয়েছে।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট চট্টগ্রামে আনিস ও মোহাম্মদ হাসান হত্যা মামলায় তার নাম আসে। এরপর ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়ার আলোচিত জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলায়ও তাকে আসামি করা হয়। সর্বশেষ নগরের চন্দনপুরায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায়ও তার নাম আলোচনায় আসে।