খাগড়াছড়িতে গুইমারা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, আহত ১২ সেনা সদস্য।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে ‘জুম্ম-ছাত্র জনতা’র ব্যানারে দ্বিতীয় দিনের মতো অবরোধ চলছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে জেলা শহর ও আশপাশের এলাকায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। অবরোধ চলাকালে গুইমারায় একটি বাজারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে বাজারের একাধিক দোকান ও কয়েকটি বসতঘর পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে গুইমারা উপজেলার রামেসু বাজারে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান গুইমারা থানার ওসি মো. এনামুল হক চৌধুরী।

বাজারটি চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে অবস্থিত। ঘটনার পরপরই আগুন দেওয়ার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাজারের দোকানগুলোর মালিকের বেশিরভাগই পাহাড়ি।স্থানীয় বাসিন্দা মংসাজাই মারমা ও কংজরী মারমার অভিযোগ, তারা খাদ্যগুদামের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ পালন করছিলেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আসলে তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি চালায় এবং গুলির পর লোকজন আতঙ্কে পালিয়ে যায়। তাদের দাবি, এরপর ২০-২৫ জন মুখোশধারী লোক এসে রামেসু বাজার ও আশপাশের বসতঘরে লুটপাট চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

দোকানপাট ছাড়াও বেশ কিছু মোটরসাইকেলেও আগুন লাগানো হয়।এদিকে গুইমারায় ইউপিডিএফ-এর হামলায় অন্তত ১২ সেনা সদস্য আহত হয়েছেন। সকাল থেকে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া গুইমারার বিভিন্ন সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে ইউপিডিএফ সদস্যরা তাদের ওপর হামলা চালায়, এতে ১২ সেনা আহত হন।অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ি শহরে সকাল থেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শহরের মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। বাজারসহ আশপাশের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। যারা প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হচ্ছেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে নিরাপত্তা বাহিনী।