তেলের আগুন থেকে রেমিট্যান্স সংকট— কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ ?

লেখক: এমরানুর রেজা
প্রকাশ: ৬ ঘন্টা আগে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট:

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নয়— এর অভিঘাত পৌঁছে যাচ্ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার—সমুদ্রপথ, পণ্য পরিবহন, মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে। আর বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এর প্রতিটি ধাক্কাই গুরুত্বপূর্ণ। সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে এসে সেই চাপের একটি দৃশ্যমান প্রতিফলন দেখা গেল দেশের জ্বালানি বাজারে— সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করেছে। কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা করা হয়েছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।

অর্থাৎ একবারে প্রতি লিটারে ২০ টাকা করে বৃদ্ধি।সরকারের ব্যাখ্যা— মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা BPC-এর ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারি হিসাবে, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত BPC-এর ক্ষতি প্রায় ১.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— এখানেই কি চাপ শেষ? সম্ভবত নয়।মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে দুটি সমুদ্রপথ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ— হরমুজ প্রণালি এবং বাব এল-মান্দেব। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বিশাল অংশ চলাচল করে। অন্যদিকে বাব এল-মান্দেব হলো লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রবেশপথ। ইয়েমেনের হুথিদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং লোহিত সাগর অঞ্চলে তাদের তৎপরতা এই পথকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে হুথিদের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার কথা উঠে এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা— সৌদি আরবের প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ East-West Pipeline পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের দিকে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ। সাম্প্রতিক হামলার পর পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। বিভিন্ন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর মাধ্যমে দিনে প্রায় ২.৬ থেকে ৪ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত তেল পরিবহন করা হয়েছে— সাম্প্রতিক সময়ে কিছু হিসাব ৪–৫ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্তও উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ বৈশ্বিক তেল সরবরাহের কয়েক শতাংশের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার— পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানেই সৌদি আরবের তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। সৌদি আরব বিকল্প রুট ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করছে।

২১ সেপ্টেম্বরের Reuters প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইপলাইন-সংক্রান্ত সমস্যার মধ্যেও সৌদি তেল রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে। অতএব, এখনই ‘সৌদি অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে’—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো তথ্য নেই। কিন্তু ঝুঁকি যে বেড়েছে, সেটি স্পষ্ট।বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি শুধু তেলের দাম নয়। ঝুঁকি তিনটি জায়গায়— জ্বালানি → আমদানি ব্যয় → বৈদেশিক মুদ্রা— এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে আরেকটি বিষয়— মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার → রেমিট্যান্স → কর্মসংস্থান। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ৩৫.৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন— আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৭.৩ শতাংশ বেশি— এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে এসেছে প্রায় ৫.৮৫ বিলিয়ন ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রায় ৪.৫৮ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।তবে এখানে একটি ভুল ধারণা পরিষ্কার করা জরুরি।বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুরোটাই রেমিট্যান্সের টাকা নয়। রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স, বৈদেশিক ঋণ, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন উৎসের বৈদেশিক মুদ্রা দেশের রিজার্ভে ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৬ শেষে মোট গ্রস রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩৭.৩৫ বিলিয়ন ডলার। তবে রেমিট্যান্স কমে গেলে রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়বে— এটি অস্বীকার করার উপায় নেই— এখানেই বাংলাদেশের জন্য বড় প্রশ্ন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে নির্মাণ, পরিবহন, আবাসন, পরিষেবা এবং অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমতে পারে। এর ফলে নতুন শ্রমিক নেওয়ার গতি কমে যেতে পারে, কর্মঘণ্টা বা আয় কমতে পারে, এমনকি কিছু শ্রমিক দেশে ফিরেও আসতে পারেন। কিন্তু গণহারে বাংলাদেশি শ্রমিক ফেরত পাঠানো শুরু হবে— এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো নেই। তাই আতঙ্কের চেয়ে প্রস্তুতির প্রশ্নটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ— কারন, একদিকে যদি নতুন শ্রমিক যাওয়া কমে এবং অন্যদিকে পুরোনো শ্রমিকের আয় কমে বা তারা দেশে ফিরে আসে, তাহলে বাংলাদেশের ওপর দ্বিমুখী চাপ তৈরি হতে পারে।

একদিকে রেমিট্যান্স কমবে। অন্যদিকে দেশে বেকার মানুষের সংখ্যা বাড়তে পারে। এই দুই ঘটনা একসঙ্গে ঘটলে সেটি অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।জ্বালানি অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি স্তরের সঙ্গে যুক্ত— ডিজেলের দাম বাড়লে কৃষকের সেচ ব্যয় বাড়ে। ট্রাকের ভাড়া বাড়ে। বাসের খরচ বাড়ে। কারখানার উৎপাদন ব্যয় বাড়ে। পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ে। এরপর সেই অতিরিক্ত ব্যয় কোনো না কোনোভাবে ভোক্তার ওপর চলে আসে। এই কারণেই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি শুধু একটি পণ্যের দাম বৃদ্ধির ঘটনা নয়; এটি অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়া একটি cost shock। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৬-এ দেশের মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৩২ শতাংশ।

একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লেও আমদানি ও চলতি হিসাবের ওপর চাপের কথাও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।অর্থাৎ অর্থনীতি এমনিতেই চাপমুক্ত নয়।বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সম্ভবত একটি জায়গায়— বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎসের বৈচিত্র্য এখনো সীমিত। বাংলাদেশ অবশ্য রপ্তানি করে। এবং রপ্তানি আয়ও ছোট নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছিল। কিন্তু রপ্তানি ঝুঁকির বড় অংশ পোশাকশিল্পকেন্দ্রিক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মোট পণ্য রপ্তানির ৮২ শতাংশের বেশি এসেছিল তৈরি পোশাক খাত থেকে। অর্থাৎ আমাদের রপ্তানি আছে, কিন্তু বহুমুখীকরণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে— এখানেই ভিয়েতনামের সঙ্গে তুলনাটি গুরুত্বপূর্ণ— ২০২৫ সালে ভিয়েতনামের পণ্য রপ্তানি ছিল প্রায় ৪৭৫ বিলিয়ন ডলার। তাদের রপ্তানির বড় অংশ ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটার, যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন, পোশাক, জুতা, যানবাহনসহ বিভিন্ন শিল্পপণ্য থেকে এসেছে। তবে এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে— ভিয়েতনামের বিপুল রপ্তানির বড় অংশই বিদেশি বিনিয়োগকারী বা FDI-নির্ভর শিল্প থেকে আসে।

২০২৫ সালে তাদের মোট রপ্তানির প্রায় ৭৭ শতাংশ FDI খাত থেকে এসেছে— অর্থাৎ ভিয়েতনামের সাফল্য শুধু ‘নিজেদের কারখানা’ দিয়ে তৈরি হয়নি; তারা নিজেদের অর্থনীতিকে বৈশ্বিক উৎপাদন ও সরবরাহ-শৃঙ্খলের সঙ্গে শক্তভাবে যুক্ত করতে পেরেছে। বাংলাদেশের জন্য এখানেই বড় শিক্ষা রয়েছে।প্রশ্নটি আরও বড়— বাংলাদেশ কি এমন একটি অর্থনীতি তৈরি করতে পারবে, যেখানে প্রবাসী শ্রমিকের রেমিট্যান্স থাকবে, কিন্তু অর্থনীতির প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা-নির্ভরতা শুধু শ্রমবাজারের ওপর থাকবে না? গার্মেন্টস থাকবে, কিন্তু তার পাশাপাশি ইলেকট্রনিকস, ওষুধ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত পণ্য, আইটি সেবা, জাহাজ নির্মাণ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানি বাড়বে? দেশে শ্রমিক বিদেশে যাবে কিন্তু শুধু কম দক্ষ শ্রমিক হিসেবে নয়; প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান, নার্স, সফটওয়্যার পেশাজীবী, মেরিটাইম কর্মী ও অন্যান্য দক্ষ পেশাজীবী হিসেবেও যাবে?এগুলোই দীর্ঘমেয়াদি প্রশ্ন।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট থেকে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে— সংকটের সময় ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি কাঠামোগত প্রস্তুতিও নিতে হবে— প্রথমত, জ্বালানি মূল্যের জন্য একটি স্বচ্ছ ও পূর্বনির্ধারিত মূল্য-নীতিমালা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক বাজারে সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি আর দেশের অভ্যন্তরীণ স্থায়ী ব্যয়— দুটিকে একইভাবে দেখা উচিত নয়। দ্বিতীয়ত, জ্বালানির ওপর কর ও শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে, বিশেষ করে যখন আন্তর্জাতিক বাজারের ধাক্কা সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর চলে আসে। তৃতীয়ত, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ক্রয়, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিতরণ ব্যবস্থায় দক্ষতা বাড়াতে হবে। অপ্রয়োজনীয় মধ্যবর্তী ব্যয় কমানো জরুরি। চতুর্থত, শুধু তেল আমদানির বিল কমানোর জন্য নয়, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সৌরবিদ্যুৎ, দেশীয় গ্যাস, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং অন্যান্য বিকল্প উৎসে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পঞ্চমত, মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে সম্ভাব্য ধাক্কার জন্য প্রবাসী পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান পরিকল্পনা এখন থেকেই প্রস্তুত রাখা দরকার। কেউ দেশে ফিরে এলে তাকে শুধু ‘বেকার’ হিসেবে দেখা যাবে না— তার বিদেশে অর্জিত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সঞ্চয়কে দেশীয় উৎপাদনে কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ষষ্ঠত, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—রপ্তানি বহুমুখীকরণ। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এমন জায়গায় নিতে হবে যেখানে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য শুধু পোশাক কারখানা এবং বিদেশে কর্মরত শ্রমিক— এই দুই স্তম্ভের ওপর নির্ভর করতে না হয়।এই মুহূর্তে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ আসছে— এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো তথ্য নেই। একইভাবে সৌদি অর্থনীতি শিগগিরই ভেঙে পড়বে বা মধ্যপ্রাচ্য থেকে গণহারে বাংলাদেশি শ্রমিক ফেরত পাঠানো হবে— এমন নিশ্চিত তথ্যও নেই। কিন্তু ঝুঁকি বাস্তব। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন, তেলের উচ্চমূল্য, শিপিং ব্যয় বৃদ্ধি, খাদ্য ও সার আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি বাজারে দুর্বলতা এবং রেমিট্যান্সে সম্ভাব্য ধাক্কা— এসব একসঙ্গে ঘটলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়তে পারে।

তাই আতঙ্কের চেয়ে প্রস্তুতিই বেশি জরুরি।আজকের বাস্তবতা হলো— ডিজেল ১১৫ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা হয়েছে। কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা। অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা। পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা।কিন্তু মানুষের আয় কি একই গতিতে বেড়েছে? এটাই মূল প্রশ্ন। জ্বালানির দাম বাড়ানো কখনো কখনো রাষ্ট্রের আর্থিক চাপ সামলানোর প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু নীতিগত প্রতিক্রিয়া শুধু আরেক দফা নির্ধারিত মূল্যবৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ থাকলে সমস্যার মূল সমাধান হয় না। জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে এমন একটি স্বচ্ছ নিয়ম দরকার, যেখানে সাময়িক বৈশ্বিক মূল্য-ধাক্কা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ স্থায়ী ব্যয় বৃদ্ধিকে আলাদা করে দেখা হবে। সরকারকে জ্বালানির ওপর কর কাঠামো পর্যালোচনা করতে হবে, BPC-এর সুশাসন ও ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে হবে, ক্রয়প্রক্রিয়ায় দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং এড়ানো সম্ভব এমন বিতরণ ব্যয় কমাতে হবে।কারণ জনগণের প্রশ্নটি খুব সাধারণ— জ্বালানির দাম বাড়তেই পারে; কিন্তু সেই বাড়তি দাম যেন শুধু জনগণের ঘাড়ে না পড়ে।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আমাদের জন্য হয়তো একটি সতর্কবার্তা। যে অর্থনীতি নিজের জ্বালানি, খাদ্য, প্রযুক্তি, শিল্প ও বৈদেশিক মুদ্রার উৎসকে যত বেশি বৈচিত্র্যময় করতে পারে, বৈশ্বিক সংকটের সময় সেই অর্থনীতি তত বেশি স্থিতিস্থাপক থাকে। বাংলাদেশের সামনে তাই শুধু আজকের প্রশ্ন নয়।প্রশ্ন হলো— আর কতদিন আমরা সংকট এলে দাম বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামলাব, আর সংকট না থাকলে কাঠামোগত সংস্কার পিছিয়ে দেব? কারণ যুদ্ধের আগুন কখন কোথায় পৌঁছাবে, সেটি আমাদের হাতে নেই। কিন্তু সেই আগুনে আমাদের অর্থনীতি কতটা পুড়বে— তার কিছুটা প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষমতা আমাদের হাতেই আছে।