চুয়াডাঙ্গা-১: বিএনপির দুর্গে জামায়াতের হানা!

লেখক: খাইরুল ইসলাম
প্রকাশ: ১১ মাস আগে
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলাতে আসন রয়েছে মাত্র দুটি। ১৯৮৪ সালে নির্বাচনী এলাকা নির্ধারিত হলে জাতীয় পর্যায়ের ৭৯ (চুয়াডাঙ্গা-১) ও ৮০ (চুয়াডাঙ্গা-২)নং সংসদীয় আসন চুয়াডাঙ্গা জেলার সীমানায় পড়ে। চূয়াডাঙ্গা-১ আসনটি চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলা এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া, মোমিনপুর, কুতুবপুর, শংকরপুর ও পদ্মবিলা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৮৪,৩৮৯ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,৪১,৬৮০, নারী ভোটার-২,৪২,৭০৫ এবং হিজড়া ভোটার-৪জন। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনটি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জাতীয়তবাদী দল(বিএনপি)র ঘাটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব সময় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনটি বিএনপির দখলে ছিল। ২০০৮ সালের পর থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে যায়। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ভোটের মাঠে প্রার্থীদের উপস্থিত বেড়েছে। বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী অনেক পূর্বেই তাদের একক প্রার্থী হিসেবে এ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেলের নাম ঘোষণা করেছে। জনাব রাসেল তাঁর নেতা-কর্মী নিয়ে দিন রাত নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। দিন দিন তাদের কর্মী সমর্থকও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, মানুষ এবার সৎ ও যোগ্য ব্যক্তির শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিবে।
বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে সবচেয়ে বড় দল বিএনপি। এখন পর্যন্ত বিএনপি তাদের একক কোন প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন চার জন। তাঁরা হলেন-শামসুজ্জামান দুদু, শরিফুজ্জামান শরিফ, লে.কর্নেল(অব) সৈয়দ কামরুজ্জামান ও সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বিশ্বাসের মেয়ে কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিলিমা ইসলাম মিলি বিশ্বাস ।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান-সাবেক ছাত্রনেতা ও দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আমি এই এলাকার মানুষ এলাকাবাসীর উন্নয়নের জন্যই আমি এ আসন থেকে নির্বাচন করতে চাই এবং দল আমাকে সমর্থন করবে বলে প্রত্যাশা রাখি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ বলেন, বিএনপির সংকটকালীন সময়ে আমি এ আসনের নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলাম। স্বচ্ছতার সাথে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডগুলিতে কমিটি দিয়ে তৃণমূল বিএনপিকে শক্তিশালী করেছি। জনগণের সমর্থন-ভালোবাসা ও আমার সাংগাঠনিক ক্ষমতার কারণে আমি এ আসনের মনোনয়ন পাব বলে আশা করি। তিনি আরো বলেন, আমি নির্বাচিত হলে মাদক ও চাঁদাবাজ মুক্ত সমাজ গঠন করব। ইনশাল্লাহ। জেলা বিএপির অন্যতম নেতা লে.কর্নেল(অব) সৈয়দ কামরুজ্জামান ও সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বিশ্বাসের মেয়ে কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিলিমা ইসলাম মিলি বিশ্বাসও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। শামসুজ্জামান দুদুর অভিজ্ঞতা, শরিফুজ্জামানের সাংগাঠনিক ক্ষমতার বিচারে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এই দুজন অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছেন বলে সর্বত্র কানাঘুষা শোন যাচ্ছে।
এছড়াও এ আসন থেকে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্ট)র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মোল্লা ফারুক এহসান,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা জহুরুল ইসলাম আজিজি, খেলাফত মজলিসের মাওলানা শফিকুল ইসলাম দলীয় প্রার্থী হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করেছে। দলগুলি প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও ভোটের জন্য এখনো তাদের তৎপরতা সেভাবে চোখে পড়েনি। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে এবার বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়া সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে । যা পূর্বে কখনো দেখা যায়নি। নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি যদি তাদের ভিতরের গ্রুপিং বা কোন্দল মোকাবেলা করতে না পারে এবং দলগতভাবে মাঠে থাকতে ব্যর্থ হয়; তবে বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত এ আসন জামায়াতের কাছে হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। জামায়াতের সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতার এ আসনে জামায়াতকে এগিয়ে রাখবে। তাছাড়া প্রথমবারের মত চুয়াডাঙ্গা-১ থেকে জামায়াতের প্রার্থী এ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকবে।
খাইরুল ইসলাম: লেখক,গবেষক ও মানবাধিকার কর্মী।