সরকার পুলিশ বিভাগের তিনজন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর মল্লিক ফখরুল ইসলাম, পুলিশ টেলিকমের প্রধান ওয়াই এম বেলালুর রহমান এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি সেলিম মো. জাহাঙ্গীর। ৩১ ডিসেম্বর এই বিষয়ে পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে এই তিন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। তারা অবসরের পর নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্য সব সুবিধা পাবেন। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক কর্মকর্তাকে অবসর দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ এই তিনজন অতিরিক্ত আইজিপিকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ২ সেপ্টেম্বর র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ, হাইওয়ে পুলিশের প্রধান শাহাবুদ্দিন খান, এবং ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার খন্দকার মহিদ উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছিল। একই দিনে একাধিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুলিশ বিভাগের আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়, যার মধ্যে ছিলেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার লুৎফুল কবির এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মীর রেজাউল আলম।
এছাড়াও আগস্ট মাসে বিভিন্ন তারিখে আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক কৃষ্ণ পদ রায়, কেএমপির কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক, এবং অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক সরদার রকিবুল ইসলাম। একই সময় সিআইডির সাবেক প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া এবং শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. মাহাবুবর রহমানসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে অবসর দেওয়া হয়।
এদিকে, আগস্ট মাসের শুরুর দিকে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান ও এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামকেও তাদের পদ থেকে সরিয়ে অবসরে পাঠানো হয়। এছাড়া রংপুরের আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়িত্বরত কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান ও উপমহাপরিদর্শক মো. আবদুল বাতেনকেও একইভাবে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়।
এ ধরনের পদক্ষেপগুলো জনস্বার্থ রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
