নিজস্ব প্রতিনিধি:
হিন্দু পরিবারের মেয়ে হয়ে জাহির ইকবালকে বিয়ে করার পর থেকেই সোনাক্ষী সিনহা বারবার সমালোচিত হয়েছেন। শোনা যায়, ভিন্ন ধর্মে বিয়ে করার কারণে তার পরিবারেও নাকি অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি তার দুই ভাই লব ও কুশ তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানেও যোগ দেননি।
সম্প্রতি ভারতের কাশ্মীরের পহেলগামে যে হামলা হয়েছে এবং সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরির চেষ্টা চলছে, তখন এ বিষয়ে সরব হয়েছেন সোনাক্ষী সিনহা।ভারতের ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডের একটি পোস্ট শেয়ার করে সোনাক্ষী স্পষ্ট করে বোঝাতে চেয়েছেন, ‘ভারতীয়দের মনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হিন্দু-মুসলিম বিভেদের বীজ বপন করা হচ্ছে।
’অভিনেত্রী তার শেয়ার করা পোস্টে উল্লেখ করেছেন, সন্ত্রাসবাদীদের লক্ষ্য কেবল নিরীহ মানুষদের হত্যা করাই ছিল না, বরং তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশবাসীর মনে অবিশ্বাস তৈরি করা। ভারতীয় হিন্দুদের ভারতীয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে উস্কে দেওয়া, দুই সম্প্রদায়ের প্রতিবেশী ও বন্ধুদের মধ্যে সন্দেহের বিষ ছড়িয়ে দেওয়া—এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত একটি প্রচার। পহেলগামের ঘটনায় একজন ভারতীয় হিসেবে শোক প্রকাশ করার পরিবর্তে, আমাদের হিন্দু হিসেবে শোক জানাতে বলা হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বদলে সম্প্রীতির মূল ভিত্তি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু দেশবাসীর এই কষ্টকে ব্যবহার করে এক ভারতীয়কে অন্য ভারতীয়ের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা ক্ষমার অযোগ্য।
এমন একটি পোস্ট শেয়ার করে সোনাক্ষী সিনহা দেশবাসীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, দয়া করে বিভাজন সৃষ্টিকারী এই মানুষগুলোকে জিততে দেবেন না। সোনাক্ষীর সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন শহিদ কাপুরের ভাই ইশান খট্টর।ইশান তার মন্তব্যে বলেছেন, ‘পহেলগাঁওয়ের সন্ত্রাসে হিন্দুদের বিশেষভাবে নিশানা করা হয়েছিল, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তবে এর একটি দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক ইতিহাস রয়েছে। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জোর করে তাদের মাতৃভূমি থেকে অত্যাচার করে বের করে দেওয়া এবং অমরনাথ যাত্রীদের ওপর হামলা—সে কথাই প্রমাণ করে। কিন্তু সেই কষ্টের অজুহাতে ভারতীয় হিন্দুদের ভারতীয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো মেনে নেওয়া যায় না। এটা ক্ষমার অযোগ্য। আর এখানেই সন্ত্রাসবাদীদের চূড়ান্ত বিজয়। আমাদের অবশ্যই সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে তারা জিততে না পারে। তাদের পাতা ফাঁদে পা দেবেন না।’ এদিকে কাশ্মীর হামলা নিয়ে ভারতের বিনোদন জগতের প্রায় সকল তারকাই তাদের সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিবাদী বার্তা লিখছেন।
