নেপালে বন্যা : নিহত অন্তত ৩৫০ জন, নিখোঁজ ১৩০০-র বেশি।

লেখক: ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ: ১৫ ঘন্টা আগে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গতকাল বুধবার হিমবাহ ধস থেকে আকস্মিকভাবে শুরু হয় বন্যা। ভয়াবহ এ বন্যায় বেঁচে যাওয়া মানুষদের সন্ধান এখনো চলছে। হিমালয় অঞ্চলের জনবসতিগুলোর ওপর দিয়ে কাদা ও পাথরের বিশাল স্রোতে পুরো গ্রাম ভেসে যাওয়ার পরেরদিন, অর্থাৎ আজ বৃহস্পতিবার উদ্ধারকাজ চালিয়ে গেলেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নতুন বিপর্যয়ের বিষয়ে সতর্ক করেছে।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বন্যার পানিতে সৃষ্টি হওয়া একটি হ্রদ ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং তাতে নতুন দুর্যোগের শঙ্কা রয়েছে৷নেপালের জাতীয় দুর্যোগ-ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে এখনো ৮০০-রও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৬০০ জনই বিদেশি নাগরিক। অন্যদিকে চীনের সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ২৬০ জন বিদেশিসহ এখনো মোট ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন৷নেপাল ও তিব্বতের যেসব এলাকা।

বন্যাদুর্গত হিমবাহ ধসে ভোতেকোশি নদীর উপনদী লেন্দে খোলা-তে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়৷ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু ও লাসার সংযোগকারী একটি পথে নেমে আসে কাদা আর পাথরের প্রবল স্রোত। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘‘মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে, কারণ, আমরা তল্লাশি অভিযান আবার শুরু করেছি। আরো মৃতদেহ উদ্ধারের আশঙ্কা রয়েছে।

কোন দেশের কতজন নিখোঁজ ?

নেপালে নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতের নাগরিকই বেশি৷ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, নেপালে ২৮৮ জন ভারতীয় নাগরিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরো জানান, চীনে অন্তত ২০০ জন ভারতীয় আটকা পড়ে আছেন৷নেপাল পর্যটন বোর্ডের মুখপাত্র সুনীল শর্মা বার্তা সংস্থা এপি-কে জানান। নিখোঁজদের মধ্যে অনেকেই তিব্বতের কৈলাস পর্বতে হিন্দুদের কাছে একটি তীর্থস্থানে যাচ্ছিলেন।

তিনি আরো জানান, নিখোঁজদের মধ্যে ৪৭ জন যুক্তরাষ্ট্রের, ৩৪ জন অস্ট্রেলিয়ার, ৩৩ জন যুক্তরাজ্যের, ২৪ জন ক্যানাডার এবং ৮ জন জার্মানির নাগরিকও রয়েছেন৷ তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং ক্যানাডার ২৫ জন রয়েছেন৷বন্যায় চীনের নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন৷ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় এখনো প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না৷বেঁচে যাওয়াদের বর্ণনায় ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা।

৬৮ বছর বয়সি কেশব প্রসাদ বারাল রয়টার্সকে বলেন, ‘‘ওটা (কাদা আর পাথরের স্রোত) যত কাছে আসছিল, ততই তার উচ্চতা বাড়ছিল৷ যখন দেখলাম কাদা আমাদের বাড়িতে ঢুকে পড়ছে, আমার স্ত্রীর হাত ধরে তাকে ছাদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু কাদার তোড়ে ও ভেসে গেল।

চার ঘণ্টা পর হেলিকপ্টারে তুলে কেশব প্রসাদ বারালকে উদ্ধার করা হয়। স্ত্রী-র খবর জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমার স্ত্রী এখনো কোথাও কাদার নিচে চাপা পড়ে আছে। সে আর নেই !” হিমালয়কেন্দ্রিক এক পর্যটন সংস্থার প্রধান সাগর পান্ডে হেলিকপ্টারে করে এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন৷ রয়টার্সকে তিনি জানান, ‘‘মানুষের তৈরি কোনো স্থাপনা বা জনবসতি আর অবশিষ্ট নেই৷ সবকিছুই (ভেঙে) সমতল হয়ে গেছে৷ তাই হোটেল, রেস্তোরাঁ বা গাড়িতে যারা ছিলেন, তাদের প্রত্যেকেই সম্ভবত প্রাণ হারিয়েছেন৷”