আলমডাঙ্গায় গাছ কাটা: ‘গাছখেকো’ চক্রের থাবা, প্রশ্নের মুখে প্রশাসন।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

আলমডাঙ্গা প্রতিনিধি:

আলমডাঙ্গার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক সাতকপাট এলাকার পাশের বেশ কয়েকটি পুরোনো গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘নদীখেকো, বাজারখেকো, গাছখেকো, ঘুষখেকো, চাঁদাখেকো, অবশেষে দেশখেকো’—এমন বাক্যগুলো উচ্চারিত হচ্ছে।

পরিবেশবিদ ও স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।ঘটনার বিবরণসাতকপাটের পাশে বেশ কয়েকটি মূল্যবান গাছ ছিল, যা এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। গত কয়েক দিন ধরে দেখা যাচ্ছে, রাতের আঁধারে বা দিনে প্রকাশ্যে শ্রমিক লাগিয়ে এসব গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, গাছগুলো কাটার জন্য কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি নেওয়া হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন এই বিষয়ে পুরোপুরি নীরব, যা তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নএলাকাবাসীর অভিযোগ, এই গাছ কাটার পেছনে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত। তারা বলেন, “এরা শুধু গাছখেকো নয়, এরা নদীখেকো, বাজারখেকো,ঘুষখেকো। দেশের সম্পদ লুট করে এরা ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠছে।” পরিবেশকর্মী ও সাধারণ মানুষ বলছেন, যদি প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিত, তাহলে এমন ঘটনা ঘটত না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবেশকর্মী বলেন, “আমরা প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। মনে হচ্ছে, তাদেরও এখানে কোনো না কোনো স্বার্থ জড়িত আছে।”পরিবেশের ওপর প্রভাবএই ধরনের নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে আলমডাঙ্গার পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাছ হলো একটি অঞ্চলের ফুসফুস। এভাবে গাছ কেটে ফেললে তা জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিবেশ সংরক্ষণ কমিটির এক সদস্য বলেন, “একটি গাছ বড় হতে কয়েক দশক সময় লাগে, অথচ একটি চক্র সামান্য লাভের জন্য তা মুহূর্তেই ধ্বংস করে দিচ্ছে। এটি একটি চরম অন্যায়।”দাবি ও প্রত্যাশাস্থানীয়রা অবিলম্বে এই গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, তারা প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণ খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিবেশ রক্ষায় আরও কঠোর হবে এবং এমন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ বন্ধ করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। তা না হলে এই ‘দেশ খেকো’ চক্র দেশের সব সম্পদ একে একে শেষ করে দেবে।