এক দম্পতি কমলাপুর রেলস্টেশনে টাকা-পয়সা হারিয়ে বিপাকে পড়েন। তাদের অসহায় অবস্থা দেখে হাবীবুল্লাহ বাহার ইউনিভার্সিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ মো. সাইফুর রহমান ভূঁঞা সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি তাদের থাকার ব্যবস্থা ও চাকরির সুযোগ দেওয়ার কথা বলে উত্তরখানের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান।
তবে সেখানে গিয়ে যুবকের স্ত্রীকে লক্ষ্য করে সাইফুর রহমান অনৈতিক আচরণ শুরু করেন। সুযোগ পেলেই তিনি স্বামীকে বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করতেন এবং তরুণীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করতেন। একপর্যায়ে, রোববার রাতে তিনি ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এতে স্বামী প্রতিবাদ করলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। ঘটনার একপর্যায়ে, আত্মরক্ষার জন্য দম্পতি সাইফুর রহমানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন এবং দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় সাইফুর রহমানকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকে পুলিশ দম্পতিকে খুঁজছিল এবং মঙ্গলবার সকালে ফরিদপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুরো ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সাইফুর রহমান প্রথমে সহায়তা দেওয়ার কথা বলে দম্পতিকে নিজের বাসায় নিয়ে গেলেও তার আসল উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। তিনি একাধিকবার ওই নারীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে বলে নারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
সাইফুর রহমান মূলত হাবীবুল্লাহ বাহার ইউনিভার্সিটি কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন এবং কলেজের ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষের দায়িত্বেও ছিলেন। তার পরিবার রাজধানীর শান্তিনগরে থাকত, তবে তিনি মাঝে মাঝে উত্তরখানের বাসাতেও অবস্থান করতেন।
এ ঘটনায় নিহত শিক্ষকের ছোট ভাই লুৎফুর রহমান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, রোববার গভীর রাতে কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা সাইফুর রহমানের কক্ষে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এবং তাকে ফ্ল্যাটে রেখে পালিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
